ভারতের বিহার রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকায় বাদ পড়া প্রায় ৬৫ লাখ নাগরিকের নাম প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে তালিকা থেকে ওই ভোটারদের বাদ দেওয়ার কারণও উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। একই আদালত আধার কার্ডকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে বিহারে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) সম্পর্কিত মামলার শুনানি হয়। দুই বিচারপতির বেঞ্চ শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনকে আগামী মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে ৬৫ লাখ ভোটারের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশ দেয়।
পাশাপাশি আদালত কয়েক দফা অন্তর্বতী পদক্ষেপেরও আদেশ দেয়। এগুলো হলো- ৬৫ লাখ ভোটারকে খসড়া থেকে বাদ দেওয়ার কারণ উল্লেখ করে বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ, ওই তালিকার অনলাইন সংস্করণ ওয়েবসাইটে প্রকাশ, খসড়া তালিকায় বাদ পড়াদের নতুন করে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া, বিষয়টি সম্পর্কে টেলিভিশন, রেডিও এবং গ্রামের পঞ্চায়েত অফিসে বিজ্ঞপ্তি টানানো, মৃত-জীবিত ভোটারদের তথ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

বিচারকেরা আরও বলেন, বিহার রাজ্যের প্রতিটি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের বুথ-ভিত্তিক তথ্যে ভোটারের ছবিসহ একক (এপিক) নম্বর উল্লেখ থাকবে। এতে যেকোনো ভোটারকে পরিচয়পত্রের নম্বরটি দিয়েই খুঁজে বের করা যাবে।
শীর্ষ আদালত বিহারের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তাকে (সিইও) নির্দেশ দিয়েছে, যাতে সব নির্বাচনি ওয়েবসাইটে ওই একক (এপিক) নম্বর যুক্ত করা হয় এবং তা সহজে খুঁজে পাওয়ার (সার্চ মোড) ব্যবস্থা রাখা হয়।
সাধারণ মানুষ যেন খসড়া তালিকা ও বাদ দেওয়ার কারণ দেখতে পারেন সে লক্ষ্যে বিহারের আঞ্চলিক ভাষার সংবাদপত্র ও ইংরেজি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির পাশপাশি জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা বা বিহারের সিইও’র সরকারি সামাজিকমাধ্যমেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আধার কার্ডের কপিসহ ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার আবেদন জমা দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আধার কার্ড ওই ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিক পরিচয়ের প্রমাণ দেবে। নির্বাচন কমিশন সব বুথ লেভেল অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছ থেকে সে তথ্য সংগ্রহ করে আদালতে জমা দেবে।
বিচারকেরা বলেন, ‘খসড়া তালিকায় ২২ লাখ মানুষকে মৃত দেখিয়ে বাদ দেয়া হয়েছে। তাদের নাম প্রকাশ করলেই জটিলতা ও বিতর্ক কেটে যাবে। কেন নাম বাদ গিয়েছে তা জানার মৌলিক অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা চাই। নামের তালিকা দপ্তরে টাঙিয়ে দেওয়া গেলে ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হোক।’


