১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে যখন প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হয়, তখন কোচদের কাজ ছিল দল নির্বাচন, খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সেই সময়ে দলগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট ছকে খেলত, মাঠের ভেতর খেলোয়াড়রা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেতেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি ছিল বেশ আদিম প্রকৃতির।
এর প্রায় এক শতাব্দী পর বর্তমানের ফুটবল ম্যানেজাররা বিশাল বিশ্লেষণধর্মী বিভাগ পরিচালনা করেন, সরাসরি খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতার তথ্য পর্যবেক্ষণ করেন এবং খেলার প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য মাসের পর মাস ধরে নতুন নতুন কৌশল তৈরি করেন। আসলে ফুটবল কোচিংয়ের এই বিবর্তন মূলত ফুটবলেরই বিবর্তনের ইতিহাস।
ফরমেশন ফুটবলের যুগ
আন্তর্জাতিক ফুটবলের শুরুর দশকগুলোতে কোচিংয়ের মূল লক্ষ্য ছিল নতুন কিছু আবিষ্কারের চেয়ে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা। বেশিরভাগ দলই ২-৩-৫ ফরমেশনের মতো প্রচলিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করত, যা ‘পিরামিড’ নামে পরিচিত ছিল। সে যুগে খেলাটি তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ায় কৌশলের খুব একটা পরিবর্তন দেখা যেত না। কোচরা কেবল খেলোয়াড় নির্বাচন করতেন এবং তাদের নিজ নিজ অবস্থানে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দিতেন।
কৌশলগত দিক থেকে প্রথম বড় পরিবর্তন আনেন অস্ট্রিয়ার কোচ এবং চিন্তাবিদ হুগো মাইসল। ১৯৩০-এর দশকে তার তৈরি করা ‘ওয়ান্ডারটিম’ ব্যক্তিগত ড্রিবলিংয়ের চেয়ে পাসের ওপর বেশি জোর দেয়। তবে ১৯২৫ সালে অফসাইড আইনের পরিবর্তনের পর ইংল্যান্ডের হার্বার্ট চ্যাপম্যান ‘ডব্লিউএম’ পদ্ধতি তৈরি করেন, যা আধুনিক কোচিংয়ের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
এই ডব্লিউএম ফরমেশন ফুটবলের জ্যামিতি বদলে দেয়। কেবল বেশি খেলোয়াড় নিয়ে আক্রমণ করার পরিবর্তে কোচরা রক্ষণভাগ মজবুত করার কথা ভাবতে শুরু করেন। সম্ভবত প্রথমবারের মতো কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা দলের জয়ের জন্য আসল সুবিধা হিসেবে কাজ করে। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম সত্যিকারের প্রভাবশালী কোচিং ব্যক্তিত্বের দেখা মেলে ১৯৫০-এর দশকে।
হাঙ্গেরীয় বিপ্লব
গুস্তাভ সেবেসের নেতৃত্বাধীন হাঙ্গেরি দল মাঠের ফাঁকা জায়গা ব্যবহারের ধারণাটি পুরোপুরি বদলে দেয়। ১৯৫৩ সালে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাঙ্গেরির বিখ্যাত ৬-৩ গোলের জয়টি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে পাহারা দেওয়ার সনাতন পদ্ধতির দুর্বলতা ফুটিয়ে তোলে।
সেবেস খেলোয়াড়দের মাঠের অবস্থান অদলবদল করে খেলার জন্য উৎসাহিত করেন, যার বড় উদাহরণ ছিল নানডর হিদেকুতির আক্রমণভাগের একটু পেছন থেকে খেলা। ইংলিশ ডিফেন্ডাররা তাকে আটকানোর জন্য নিজেদের চেনা জায়গা ছেড়ে চলে আসত, ফলে মাঠে প্রচুর ফাঁকা জায়গার তৈরি হতো। আজকের দিনে এমন মুভমেন্ট বা নড়াচড়া সাধারণ মনে হলেও সেই সময়ে এটি ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা।
সেবেস দেখিয়েছিলেন, কেবল ব্যক্তিগত দক্ষতার চেয়ে মাঠে খেলোয়াড়দের অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমেও ফুটবল খেলাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এই ধারণা পরবর্তী প্রজন্মের কোচদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
কৌশলগত প্রতিভার উত্থান
১৯৬০-এর দশকের মধ্যে কোচিং একটি বিশেষায়িত পেশা হিসেবে রূপ নেয়। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কোচ আইমোর মোরেইরা সম্ভবত ইতিহাসের সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দল পরিচালনা করেছিলেন। তবে ব্রাজিলের সেই সহজাত খেলার জন্যও কৌশলগত ভারসাম্যের প্রয়োজন ছিল। সফল দলগুলো কেবল ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করে জেতে–এমন ধারণা ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে।
তবে ফুটবলে আসল রূপান্তর ঘটে রাইনাস মিশেলসের হাত ধরে। খুব কম কোচই ফুটবলের গতিপথ এতটা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করতে পেরেছেন। এই ডাচ কোচ বিশ্বকে ‘টোটাল ফুটবল’ বা সামগ্রিক ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যা মূলত সম্মিলিত মুভমেন্ট, পজিশন বদল, প্রেসিং বা চাপ সৃষ্টি এবং মাঠের জায়গা নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের যাত্রা ট্রফি ছাড়া শেষ হলেও এটি ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী কৌশলগত প্রদর্শনী হিসেবে থেকে গেছে।
মিশেলসের অধীনে প্রতিটি খেলোয়াড় একাধারে আক্রমণভাগ এবং রক্ষণভাগের দায়িত্ব পালন করতেন। মাঠের অবস্থান ছিল কেবল খেলা শুরুর একটি বিন্দু মাত্র। ফুটবল তখন আর কেবল মাঠের জায়গা দখল করার বিষয় ছিল না, বরং তা ছিল জায়গা নিয়ন্ত্রণের খেলা।
বাস্তববাদ বনাম আদর্শবাদ
১৯৮০-এর দশকে আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং রক্ষণাত্মক বাস্তববাদের মধ্যে এক ধরনের কৌশলগত লড়াই দেখা যায়। ইতালীয় কোচিং দর্শন, বিশেষ করে এনজো বিয়ারজোটের মতো কোচরা দেখিয়েছিলেন রক্ষণাত্মক কাঠামোর মধ্যেও চমৎকার ফুটবল খেলা সম্ভব।
১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে ইতালির জয় মূলত শক্তিশালী দলীয় কাঠামো, পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং ম্যাচ পরিচালনার ওপর ভিত্তি করে এসেছিল। এ সময়ে কোচরা প্রতিপক্ষ দলকে আরও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন।
বর্তমানের তুলনায় সে সময়ের ভিডিও বিশ্লেষণ প্রাথমিক স্তরের হলেও ম্যাচ প্রস্তুতি আরও বিজ্ঞানসম্মত হয়ে ওঠে। এই যুগে নির্দিষ্ট কিছু দায়িত্বশীল পদেরও উত্থান ঘটে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, প্রেসিং ফরোয়ার্ড এবং কৌশলগত খেলোয়াড় বদল ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোচরা তখন আর শুধু এগারো জন খেলোয়াড় পরিচালনা করতেন না, বরং তারা পুরো পদ্ধতিটি নিয়ন্ত্রণ করতেন।
ম্যানেজমেন্টের পেশাদারিকরণ
১৯৯০-এর দশকের মধ্যে ফুটবল কোচিং অনেক বেশি উন্নত ও আধুনিক রূপ নেয়। ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপজয়ী জার্মান কোচ ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার কৌশলগত পরিবর্তনের গুরুত্ব প্রমাণ করেন। তবে এই দশকের আসল তাৎপর্য ছিল ম্যাচ প্রস্তুতির পেশাদারিকরণের মধ্যে। ক্রীড়া বিজ্ঞান অভিজাত ফুটবলে যুক্ত হয়। খেলোয়াড়দের পুষ্টির বিষয়ে উন্নতি ঘটে। শারীরিক সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি ফিটনেস একটি বড় কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে গণ্য হতে শুরু করে।
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে শিরোপা এনে দেওয়া এইমে জাকে’র চেয়ে এই পরিবর্তনের বড় উদাহরণ আর কেউ হতে পারেন না। তার দল ব্যক্তিগত দক্ষতার সাথে দলীয় শৃঙ্খলার এক দারুণ সমন্বয় ঘটিয়েছিল। এর ফলে ফুটবল বিশ্বে এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় যে, টুর্নামেন্ট জেতার জন্য তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের চেয়ে সঠিক দলীয় কাঠামো বেশি জরুরি। কোচের ভূমিকা তখন কেবল কৌশলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিত্ব পরিচালনা করা, গণমাধ্যমের খবর নিয়ন্ত্রণ করা এবং দলের ইতিবাচক সংস্কৃতি তৈরি করাও তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হয়ে ওঠে।
উপাত্ত ও প্রেসিং বিপ্লব
একবিংশ শতাব্দীর শুরুটা কোচিংয়ের ধারণাকে চিরতরে বদলে দেয়। আরিগো সাচির মতো অগ্রগামীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে কোচরা সম্মিলিত প্রেসিং বা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এবং দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দিতে শুরু করেন। সাচির চিন্তাভাবনা ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ইউরোপীয় ফুটবলকে নতুন রূপ দেয়।
প্রচলিত চিন্তাধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল সাচির দর্শন। তিনি মনে করতেন ফুটবলকে কেবল ব্যক্তিগত প্রতিভার ওপর ছেড়ে না দিয়ে খেলোয়াড়দের মুভমেন্ট, পারস্পরিক দূরত্ব এবং সমন্বিত প্রেসিংয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এই ধারণাগুলো পরবর্তী প্রজন্মের কোচদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
আন্তর্জাতিক স্তরে লুইস ফেলিপে স্কোলারির মতো কোচরা দলকে আরও জটিল কৌশলগত পথ দেখিয়েছেন। ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় ছিল ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক প্রতিভার সঙ্গে সুশৃঙ্খল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থার এক দারুণ সংমিশ্রণ।
একই সময়ে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে কোচরা প্রতিপক্ষকে আরও নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করার সুযোগ পান। ম্যাচ বিশ্লেষণ বিভাগ আরও বড় হয় এবং কৌশলগত পরিকল্পনা ক্রমশ উপাত্ত বা ডেটা-নির্ভর হয়ে ওঠে। খেলাটি আরও দ্রুত, আরও সুসংগঠিত এবং যেকোনো ভুলের জন্য কঠিন মাশুল গোনার মতো এক প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়।
পদ্ধতির যুগ
আগের দশকগুলো যদি কোচিংকে সম্মানিত করে থাকে, তবে ২০১০-এর দশক কোচদের ফুটবলের প্রধান চরিত্রে পরিণত করেছে। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে স্পেনের জয় ছিল পজিশনাল ফুটবলের এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। যদিও এটি মূলত ক্লাব ফুটবলের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত ছিল, তবুও স্পেনের বল দখল এবং মাঠের জায়গা নিয়ন্ত্রণের ওপর পেপ গার্দিওলার মতো কোচদের প্রভাব স্পষ্ট দেখা গেছে।
খেলার মূল লক্ষ্য তখন কেবল আক্রমণ বা রক্ষণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ম্যাচের পুরো ছন্দ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখাই ছিল আসল উদ্দেশ্য।
২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয় আরেকটি নতুন বিবর্তনকে সামনে আনে। জোয়াকিম লো’র অধীনে জার্মানি নিখুঁত প্রযুক্তি, শারীরিক তীব্রতা এবং কৌশলগত নমনীয়তার এক দারুণ মিশ্রণ তৈরি করে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তাদের বিখ্যাত ৭-১ গোলের জয়টি কেবল প্রতিভার পার্থক্যের কারণে হয়নি, বরং তা ছিল অত্যন্ত কার্যকর এক পদ্ধতির নিখুঁত বাস্তবায়নের ফল।
আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত পরিবেশ
বর্তমান যুগের একজন কোচ এমন এক পরিবেশে কাজ করেন, যা ১৯৩০ সালের প্রারম্ভিক কোচদের পক্ষে কল্পনা করাও অসম্ভব ছিল। সমসাময়িক ম্যানেজাররা জিপিএস ট্র্যাকিং, রিয়েল-টাইম পারফরম্যান্সের পরিমাপ, প্রতিপক্ষের তথ্যভাণ্ডার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বিশ্লেষণ পর্যবেক্ষণ করেন। মাঠের প্রতিটি দৌড়, পাস এবং মুভমেন্ট এখন সংখ্যার মাধ্যমে নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা সম্ভব।
তবে সম্ভবত সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে চিন্তাভাবনায় বা দর্শনে। আধুনিক কোচিং এখন আর কোনো নির্দিষ্ট বা কঠোর নিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো এক নমনীয় কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেয়। দিদিয়ের দেশমের কথাই ধরা যাক, যিনি ২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দিয়েছিলেন এবং ২০২২ সালেও দলটিকে ফাইনালে তুলেছিলেন।
নির্দিষ্ট একটি শৈলীতে অবিচল থাকা গোঁড়া কোচদের মতো না হয়ে দেশম সবসময় ভারসাম্য এবং নমনীয়তাকে অগ্রাধিকার দেন। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ফ্রান্স যেমন বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলতে পারে, তেমনি দ্রুত গতিতে প্রতিআক্রমণ করতে পারে, আবার রক্ষণভাগ সামলে বা প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেও খেলতে পারে।
একইভাবে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা ২০২২ সালের বিশ্বকাপে প্রমাণ করেছে যে কৌশলগত কঠোরতার চেয়ে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই আসল। আর্জেন্টিনা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তাদের খেলার কাঠামো এবং খেলোয়াড়দের অবস্থানে পরিবর্তন এনেছিল, কিন্তু তাদের দলীয় পরিচয় সবসময় স্পষ্ট ছিল।
আজকের দিনের সেরা কোচ তারা নন যাদের চিন্তাভাবনা অনেক বেশি জটিল, বরং তারা যারা দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের কৌশলকে মানিয়ে নিতে পারেন।
সম্ভবত কোচিংয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি কৌশলে নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে এসেছে। আগের দিনের কোচরা মূলত খেলোয়াড়দের নির্দেশ দিতেন, কিন্তু আধুনিক কোচরা মানুষের নেতৃত্ব দেন। বর্তমান যুগে নামী খেলোয়াড়দের পরিচালনা করার জন্য মানসিক বুদ্ধিমত্তা, যোগাযোগ দক্ষতা, সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষমতার প্রয়োজন হয়। তাই মাঠের কৌশল সাজানোর বোর্ডের মতোই এখন দলের ড্রেসিংরুম সামলানো সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


