বান্দরবানে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য ব্যবহৃত সবগুলো অ্যাম্বুলেন্সগুলো অচল থাকায় জরুরি রোগী পরিবহনে সংকট দেখা দিয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে ভোগান্তির মুখে পড়ছেন স্বজনরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ একটি করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছে।
সোমবার সকালে বান্দরবান সদর হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি এবং রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণে গত ২৭ জুলাই হামে আক্রান্ত চার বছর বয়সী পিলোত্রং খুমীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে বিলম্ব হয়। পরে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে তাকে নেওয়া হলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, জেলার সব সরকারি অ্যাম্বুলেন্স অচল থাকায় চট্টগ্রামের কেরানীহাট থেকে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আনা হয়েছিল। তবে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে সময় লাগায় শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন শাহীন চৌধুরী জানান, সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি কবে থেকে অচল রয়েছে, সে বিষয়ে তার কাছে তাৎক্ষণিক তথ্য নেই।
রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল হাসান জানান, রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের জন্য গত ১৮ জুলাই জেলা সদরে আনা হয়েছে। গাড়িটির চারটি চাকাই নষ্ট, যার মধ্যে সামনের দুটি চাকার অবস্থা বেশি খারাপ। সেগুলো মেরামত বা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, অ্যাম্বুলেন্স রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য বছরে এক লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ভ্যাট ও অন্যান্য সরকারি কর্তনের পর হাতে আসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স মেরামতে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ৪০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে।
আবদুল্লাহ আল হাসান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ও উঁচুনিচু সড়কে চলাচলের কারণে অ্যাম্বুলেন্সের চাকা ও যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়। এ কারণে পার্বত্য জেলাগুলোর জন্য রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।
তবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দাবি করেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণেও অনেক সময় চালকেরা বিভিন্ন অজুহাতে অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় ফেলে রাখেন।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো অচল থাকার ঘটনায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গত ২৯ জুলাই কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও অচল অ্যাম্বুলেন্সগুলো সচল করার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।


