শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মোট ২ লাখ ৩ হাজার ৫৬৪ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এছাড়াও ৭০ হাজার পুলিশ, ১ লাখ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও ৪৩০ প্লাটুন বিজিবি সদস্যও নিয়োজিত থাকবে বলেও জানান তিনি।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ আশ্বাস দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছর নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা নিয়ে কোথাও কোনো শঙ্কা নেই। সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন।
রোববার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ মহোৎসব। আগামী ২ অক্টোবর দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব।

চলতি বছরে সারাদেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় এক হাজার ৮৯৪টি বেশি।
টানা চার দিনের সরকারি ছুটি এবারের পূজার উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সরকার নির্বাহী আদেশে বুধবার ছুটি ঘোষণা করেছে। পরদিন বৃহস্পতিবার শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সরকারি ছুটি। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি উপভোগ করবে দেশবাসী।
‘মহাচণ্ডী’তে উল্লেখ আছে, ত্রেতা যুগে ভগবান রামচন্দ্র রাবণের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে শক্তি বৃদ্ধির আশায় শরৎকালে দেবী মহামায়ার পূজা করেছিলেন। এরপর তিনি যুদ্ধে জয়লাভ করে সীতাকে উদ্ধার করেন ও রাবণকে পরাজিত করেন। সেই থেকে প্রতিবছর শরৎকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গোৎসব পালন করে আসছেন।
এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে গজে (হাতি) এবং প্রস্থান হবে দোলায় (পালকি)। শাস্ত্রমতে, গজে আগমন শান্তি, সমৃদ্ধি ও শস্য-শ্যামলার প্রতীক। তবে দোলায় প্রস্থানকে অশুভ ধরা হয়, যা মহামারী বা মড়কের ইঙ্গিত বহন করে।


