বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলায় এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলায় এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আফতাব মজুমদার জয় নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে নগরীর হালিশহর থানার বিডিআর মাঠ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

খুলশী থানার ওয়ারলেস মুরগি ফার্ম এলাকার বাসিন্দা আফতাব এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণী (১৯) নগরীর আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এজাহারে ওই শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, প্রায় তিন মাস আগে ফেসবুকে আফতাবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং আফতাব তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত আফতাব ওই শিক্ষার্থীকে চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট মোড় সংলগ্ন ‘সুইট প্যালেস’আবাসিক হোটেলের ২০৮ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক  করা হয়। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের জন্য চাপ দিলে আফতাব তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে অনুসন্ধানে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, আফতাব বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে।

ঘটনার পর গত ১৯ জুলাই ওই শিক্ষার্থী বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

আরও পড়ুন

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে আফতাব মজুমদারকে গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক পীযুষ কান্তি দাস বলেন, হোটেলে যাওয়ার বিষয়টি প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফেসবুক মেসেঞ্জার যাচাই করেও বাদী ও আসামির মধ্যে কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভুক্তভোগী মেয়েটি কারো গার্লফ্রেন্ড ছিল কিনা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে।

এদিকে, এই গ্রেপ্তার ও মামলাকে ঘিরে ভিন্ন দাবি তুলেছেন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন। তিনি বলেন, এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একটি সাজানো নাটক।

আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, বন্দর এলাকার নুরুদ্দিন নামে এক বিএনপি নেতার সঙ্গে জুট ব্যবসার কারণে আফতাবের পূর্বশত্রুতা ছিল। নুরুদ্দিনের গার্লফ্রেন্ড ছিল এই মেয়ে। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে ওই তরুণীকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে আফতাবকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad