মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের সব দেশেই জ্বালানি তেলের দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সেই পরিস্থিতির প্রভাবই দেশের তেলের বাজারে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর থেকে আলাদা নই, আমরা কোনো দ্বীপ নই। কাজেই, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব আমাদের জ্বালানি তেলের বাজারে পড়েছে। তাছাড়া সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেন জ্বালানি তেল পাচার না হয়, সেজন্য দেশের বাজারে তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।’
বুধবার বিকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থিতিশীল। প্রতিবেশী অনেক দেশেই জ্বালানি তেলের দাম আমাদের চেয়ে বেশি। যে কারণে আমাদের দেশ থেকে জ্বালানি তেল পাচারের একটা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেই বিবেচনায় আমরা তেলের দাম বাড়িয়েছি।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা কষ্ট করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করেন। সেই মুদ্রা দিয়ে আমরা জ্বালানি তেল কিনে থাকি। প্রবাসী ভাই-বোনদের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা তেল যেন পাচার না হয়, সেটা আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।’
জ্বালানি তেলের দাম পুনর্মূল্যায়নের সম্ভাবনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের ভুক্তভোগী এখন পুরো বিশ্ব। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কেটে গেলে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি। তখন দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা যাবে। এমনকি তেলের দাম যা ছিল, তার চেয়েও কম নির্ধারণ করার সুযোগ থাকলে সেটা করা হবে।’
বোরো মৌসুমে বিদ্যুতের লোডশেডিং কমবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকের কথা চিন্তা করে সরকার বোরো মৌসুমে প্রান্তিক এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আগামী দিনে কৃষকদের পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সেচ ব্যবস্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছি আমরা।’


