বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জ্বালানি সংকটের কারণ এবং এ সংকটকালে ও পরবর্তীতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা একই থাকার পরও শুধু জ্বালানির দাম বাড়ানোর মাধ্যমে কীভাবে ওই সংকটের অবসান হয়েছে, তা জানতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে সংসদীয় কমিটি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে বিপিসি ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও সমন্বয়ের কারণ, জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
কমিটি বিশেষভাবে জানতে চায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে কেন জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে সংকটের সময় এবং পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকার পরও শুধু দাম বাড়ানোর ফলে কীভাবে সংকটের অবসান হলো, সে বিষয়েও বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
এ ছাড়া দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, সংরক্ষণ সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় বিপিসি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।
জনসাধারণের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা কমিটির কাছে উপস্থাপনের জন্যও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।
এ সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বিপিসির কর্মকর্তারা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


