বিদ্যুৎ সংকট ও অতিমাত্রায় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে চরম উৎপাদন সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালকলগুলো। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাল উৎপাদন কমে গেছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদিত চালের বড় একটি অংশ খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাজারে চালের দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার সরেজমিনে খাজানগর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ রাইস মিলের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং শ্রমিকেরা অলস সময় পার করছেন। বিশেষ করে যেসব চালকল পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন, সেগুলোতে সংকট সবচেয়ে বেশি।
খাজানগরের পার্শ্ববর্তী বল্লভপুরে অবস্থিত স্বর্ণা অটোরাইস মিলের কর্ণধার আব্দুস সামাদ জানান, তার মিলে দৈনিক প্রায় ৯০ টন চাল উৎপাদন হতো। তবে বর্তমানে অতিরিক্ত খরচে ডিজেল পুড়িয়েও ৩০ টনের বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন দিতে হলেও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন না মেলায় মিল মালিকেরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরাও। নওগাঁ থেকে ধান নিয়ে আসা এক ট্রাকচালক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মিল আনলোড করা যাচ্ছে না, ফলে নয় দিন ধরে তাদের অলস বসে থাকতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, কুষ্টিয়ায় ১৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গত দুই সপ্তাহ ধরে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। তবে বুধবার সন্ধ্যায় ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও এ সরবরাহ কতক্ষণ বজায় থাকবে তা নিশ্চিত নয়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, চালকলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।


