সাতক্ষীরায় মাছের ঘের থেকে সুমন নামে এক মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে সদর উপজেলার মাগুরা-কৈখালী বিলের একটি ঘের থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমন (৩৫) কৈখালী গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে।
স্থানীয় লাবসা ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা ও মাইক্রোবাসের মালিক মনোয়ার হোসাইন মোমিন জানান, সুমন প্রায় ৪ বছর তার ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি চালাতেন। অসুস্থতার কারণে তিনি চার দিন আগে ছুটি নিয়ে বাড়িতে যান। সকালে তিনি ফোনে জানতে পারেন তার ড্রাইভারকে হত্যা করে ঘেরে ফেলে রাখা হয়েছে।
নিহতের বোন রেশমা খাতুন জানান, সোমবার রাতে খাওয়া শেষে একটি ফোনকল পেয়ে তার ভাই বাইরে বের হয়ে যান। তারা ধারণা করেছিলেন, সুমন ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে গিয়েছেন। পরে ভোরে ভাইয়ের ঘরের দরজা খোলা দেখে ভিতরে গিয়ে দেখেন তার ভাই নেই। ফোনে কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পর প্রতিবেশীরা জানায়, দায়পাড়া গ্রামের কেসমত আলীর মাছের ঘেরে একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এরপর জানতে পারেন মরদেহটি তার ভাইয়ের।
তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান নিহতের পরনের পোশাক (লুঙ্গি ও গামছা) পাশে পড়ে আছে। ব্যবহৃত ফোনটিও পাশে রয়েছে। তবে ফোনের মধ্যে কোন সিম ছিল না।
সুমনের বাবা আব্দুল হামিদের ধারণা, সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা সুমনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফেলে রেখে যেতে পারে।
পরিবারের বরাতে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, মাগুরা দায়পাড়া গ্রামের কেসমত আলী সোমবার সকাল ৬টার দিকে তার মাছের ঘেরের বাসার লাইট বন্ধ করতে গিয়ে এক যুবকের বিবস্ত্র মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামবাসীকে খবর দেন। গ্রামবাসীরা এসে দেখতে পান মরদেহটি কৈখালী গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে সুমনের। এ সময় সেখান থেকে লোহা কাটা দুইটি ব্লেড, (সিমবিহীন) একটি বাটন মোবাইল, সিগারেটের প্যাকেট এবং পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের কাটা তার উদ্ধার করা হয়।
ওসি মাসুদুর রহমান আরো জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


