জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমীন জাহান খাদিজার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী ফাহিম আল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন জানান, ঘটনার পর ফাহিমকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে রোববার গভীর রাতে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামের করা মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোমবার সকালে তাকে আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
নিহত শারমীন জাহান খাদিজা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। তার স্বামী ফাহিম আল হাসান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে এবং ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছরের ২৪ জুন তারা বিয়ে করেন। পরে বিষয়টি দুই পরিবারকে জানান। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এ বিষয়ে শারমীন তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
আরও জানা গেছে, গত সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ফাহিম মুঠোফোনে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে ফোন করে জানান, শারমীন গুরুতর অসুস্থ। পরে তিনি বাসায় গিয়ে শারমীনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, শারমীনের কপালের ডান পাশে এবং মাথার ওপরের অংশে গভীর কাটা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।


