বিএনপি সরকারের পাঁচ মাস: মিত্র দলের ক্ষোভ ও হতাশা

বিএনপি সরকারের পাঁচ মাস: মিত্র দলের ক্ষোভ ও হতাশা
Advertisement
Advertisement

ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের মাথায় নানামুখী চাপে পড়েছে বিএনপি। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রমে ফুটে ওঠেছে সমন্বয়হীনতা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নিজ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মন্ত্রীদের দূরত্বের পাশাপাশি মিত্র দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন।

বিএনপির দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, সরকার পরিচালনা ও নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। একলা চলার নীতিতে চলছে বিএনপি।

এরই মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের অঙ্গীকার ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। রাজনৈতিক এই চাপের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ঘিরে দানা বাঁধছে ক্ষোভ।

এমন পরিস্থিতিতে শরিকদের ক্ষোভ প্রশমন ও রাজনৈতিক দূরত্ব কমাতে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরই অংশ হিসেবে সোমবার রাতে ১৭ বছরের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনের পর মিত্রদের সঙ্গে এই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রতিটি টেবিলে গিয়ে  মিত্র দলগুলোর সকল নেতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি শরিকদের বঞ্চনা ও যোগাযোগের ঘাটতির কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। এসময় সবাইকে ধৈর্য ধরে ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

নৈশভোজে মিত্র দলের নেতারা সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ও হজ ব্যবস্থাপনার মতো কিছু বিষয়ে প্রশংসা করলেও তাদের কণ্ঠে বঞ্চনা ও ক্ষোভের প্রকাশই ছিল বেশি।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সরাসরি অভিযোগ করেন, মন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে শরিকদের নিয়মিত যোগাযোগ নেই। এমনকি অনেক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দাওয়াতের কথাও মনে করিয়ে দিতে হয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘ পথ যেতে হলে বন্ধুদের সঙ্গে নিতে হয়, একলা চলার কৌশল চলতে পারে না। এটি কেবল সমন্বয়ের বিষয় নয়, সম্মান ও মর্যাদার প্রশ্ন।

আরও পড়ুন

একই সুর ফুটে ওঠে গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, বিএনপি এখন সরকারের কাণ্ডারি আর আন্দোলনের শরিকরা ফুটপাতে বসে গেছে। জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শরিকদের ন্যূনতম মূল্যায়ন নেই। রাষ্ট্রীয় নানা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও শরিকদের ঠিকমতো দাওয়াত দেওয়া হয় না।

তিনি বলেন, শরিকরা ক্ষমতার অংশ হতে আন্দোলন করেনি, তবে অংশীদার হিসেবে সম্মান চায়।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার ভালো করুক এটাই সবার কাম্য।  তবে ভুল হলে সমালোচনার পথ খোলা রাখতে হবে। তারেক রহমানের সামনে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও অন্যান্য নেতারা ২০০৬ সাল থেকে চলা দীর্ঘ আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

শরিকদের ক্ষোভ প্রশমনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, শরিকদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু কোনো বিভেদ নেই। তারা একসঙ্গে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। ৩১ দফা ও জুলাই সনদের আলোকেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

মিত্রদের সঙ্গে এই আয়োজন কাউকে বাদ দেওয়ার জন্য নয় উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ ও ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ। আন্দোলনে অনুপস্থিত থেকেও পরে সুবিধা নেওয়া বিভিন্ন ‘গুপ্ত’ গোষ্ঠীর সক্রিয়তা সম্পর্কেও তিনি সবাইকে সতর্ক করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী দিনে উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে মন্ত্রিসভার কাজ গতিশীল করতে কয়েকজন মন্ত্রীর ঢিলেঢালা পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। তিনি ১৮০ দিনের মধ্যে নিজ নিজ কাজের হিসাব দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মিত্র শরিকদের প্রকাশ্য এই অসন্তোষ সামাল দিয়ে ঐক্য ধরে রাখাই এখন বিএনপি সরকারের প্রধান পরীক্ষা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad