চট্টগ্রাম শহরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যসম্মত হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি দপ্তরগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা তৈরির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়। সভায় নগরীর ড্রেন, ভবনের ছাদ ও সরকারি দপ্তরগুলোর আঙিনা পরিষ্কার রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সম্ভব হয়।
সভার আলোচনায় প্রধান গুরুত্ব পায় প্রতি শনিবার নিজ নিজ আঙিনা ও ছাদ পরিষ্কার রাখার সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
বক্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার অন্তত এক ঘণ্টা সময় দিয়ে নিজেদের আবাসস্থল ও অফিসের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি, হেলদি অ্যান্ড সেফ স্মার্ট সিটি’ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। তিনি জানান, নগরীতে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও ১ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
সভায় চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ডেঙ্গু পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। সিভিল সার্জনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরে এ বছর এখন পর্যন্ত ২২৯ জন এবং উপজেলায় ২৪১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই মাসেই মহানগরীতে আক্রান্ত ১১৪ জন এবং উপজেলায় ১২৫ জন। এখন পর্যন্ত মহানগরে কোনো মৃত্যু না হলেও উপজেলায় দুইজন মারা গেছেন।
মেয়র শাহাদাত জানান, এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর জন্য সামান্য পানি যথেষ্ট, তাই সরকারি বাসভবন ও অফিসগুলোর ছাদে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, কেবল সরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়; এতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। এ ছাড়া, নাগরিক সেবা সহজ করতে চসিকের পক্ষ থেকে চালু করা ‘চট্টগ্রাম অ্যাপ’ ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়। নাগরিকরা এই অ্যাপের মাধ্যমে তাদের এলাকার বর্জ্য বা ড্রেনেজ সমস্যার ছবি ও লোকেশন পাঠালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিভাগীয় কমিশনার সরকারি অফিসগুলোতে জমে থাকা ২০-৪০ বছরের পুরনো ও অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বিধি মোতাবেক নিলামের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ করে মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যে কোরিয়ান ও চাইনিজ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা ও ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে। এছাড়া হালিশহর ও আরেফীন নগর ল্যান্ডফিল্ড দুটিকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিবেশবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ১২ হাজার ডাস্টবিন চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি নাগরিকদের সম্পদের সুরক্ষায় সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর ২১টি ওয়ার্ডে (বিশেষ করে খালের পাশের এলাকাগুলোতে) পরীক্ষামূলকভাবে বিনামূল্যে ময়লা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে মানুষ খালে ময়লা না ফেলে। কেবল সরকারি সংস্থা দিয়ে শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়; নাগরিকদের নৈতিক দায়িত্ব পালন ও সচেতনতা এখানে অপরিহার্য।
সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, সিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রমুখ। এছাড়া চট্টগ্রামের সরকারি বেসরকারি সব সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


