বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গত অর্থবছর আয় করেছেন ছয় কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা। অবশ্য এই আয়ের প্রায় পুরোটাই এসেছে জমি বিক্রির টাকা থেকে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সম্পদের হলফনামা থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১(চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে তিনি হলফনামা হিসাবে সম্পদের বিবরণী দাখিল করেন।
হলফনামায় সালাহউদ্দিন আহমদ ২০২৫–২৬ করবর্ষে তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ছয় কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা। আর একই করবর্ষে তার বাৎসরিক ব্যয় দেখিয়েছেন ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৫৯ টাকা।
সালাহউদ্দিন আহমদের আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে, কৃষিখাত থেকে ছয় লাখ টাকা, স্থাবর সম্পত্তির ভাড়া বাবদ তিন লাখ ২০ হাজার টাকা, পেকুয়া লাইভস্টক ফিশারিজ ফার্ম থেকে পাঁচ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ব্যাংক আমানত থেকে ১১ হাজার ৩২৬ টাকা, কোম্পানির পরিচালক হিসেবে সম্মানি বাবদ ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং জমি বিক্রি থেকে মূলধনী আয়সহ অন্যান্য খাত থেকে পাঁচ কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার ৩১১ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, সালাহউদ্দিন আহমদের হাতে নগদ রয়েছে এক কোটি ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৬৭ টাকা এবং তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদের নগদ অর্থ ছয় লাখ ৭৯ হাজার ১২৭ টাকা।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সালাহউদ্দিনের নামে জমা আছে ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৬ লাখ পাঁচ হাজার ৪৩৫ টাকা। তালিকাভুক্ত নয় এমন একটি কোম্পানিতে তার শেয়ার বিনিয়োগের অর্জনকালীন মূল্য ১৯ লাখ টাকা।
এছাড়া স্ত্রীর নামে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের অর্জনকালীন মূল্য দুই কোটি ৫৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ টাকা, যার বর্তমান বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ারের বর্তমান মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
যানবাহনের হিসাবে সালাহউদ্দিন আহমদের একটি সেডান কার ও দুইটি জিপের দাম প্রায় ৫৭ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর মালিকানায় রয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার একটি সেডান কার ও একটি জিপ।
হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে উপহার হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ১২ দশমিক ৩ ভরি স্বর্ণ, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ ভরি স্বর্ণ, যার মূল্য ‘অজানা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সালাহউদ্দিনের নামে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ইস্যু করা আছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের তালিকায়, ২৪ দশমিক ৩৬ একর কৃষিজমি, নয় দশমিক ৪৩ একর অকৃষিজমি, পেকুয়ায় ১২ হাজার ২০৮ বর্গফুট জায়গা জুড়ে তিনতলা বাসভবন, কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে ১৮ হাজার ১৫০ বর্গফুট জায়গা জুড়ে একটি ছয়তলা ভবন এবং চার হাজার ১৯ বর্গফুট জায়গাজুড়ে ঢাকার গুলশানে একটি ফ্ল্যাটের উল্লেখ রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়ের পরিমাণ চার কোটি ১৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি তিনি অন্যদেরকে ঋণ দিয়েছেন সাত কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের আমলে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।


