রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগে তিন দফা দাবিতে টানা তিন দিনের ‘শাটডাউন কর্মসূচি’ নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। বৈষম্যমূলক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধনসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়ায় আন্দোলনকারীরা বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদত্যাগের এক দফা দাবি যুক্ত করে আন্দোলন আরও তীব্র করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।
এ সময় ছেঁড়া শার্ট-প্যান্ট পড়ে এক হাতে সনদ এবং আরেক হাতে মূলা নিয়ে প্রতিকী আন্দোলন করেন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মোহাম্মদ ইমন। তিনি বলেন, ‘বিভাগের একদিকে চাকচিক্য থাকলেও অন্যদিকে অন্ধকার। বিভাগের বর্তমান যে অগ্ৰগতি তাতে এই সার্টিফিকেট দিয়ে ভবিষ্যৎ জীবন অন্ধকার হয়ে যাবে।’
আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি আকিল বিন তালেব বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পরেও আমাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে টানা তিন দিন রাজপথে থাকতে হচ্ছে–এটি দুঃখজনক। একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠার ১০ বছর হয়ে গেছে। সেখানে কোনো অভিজ্ঞ শিক্ষক নেই এবং অন্য বিভাগ থেকে শিক্ষক এনে পড়াতে হয়, তাহলে এই বিভাগের দরকার কী?’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, ‘আমি মঙ্গলবার ছুটিতে ছিলাম। শিক্ষার্থীদের পূর্বের দাবিগুলো নিয়ে আমি উপাচার্যের কাছে গিয়েছি। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এগুলো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সাবজেক্ট কোডের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিষয়। এখানে চাইলেই চেয়ারম্যান বা উপাচার্য কিছু করতে পারে না।’
শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের যে দাবি তুলেছে তা অযৌক্তিক বলে মনে করেন এই শিক্ষক।
এর আগে গত মঙ্গলবার থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি নিয়ে বিভাগে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে–বৈষম্যমূলক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন, ইন্টার্নশিপ ভাতা চালু এবং বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের টেকনিক্যাল ক্যাডার নিশ্চিত করা।


