মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধর্ম ও সম্প্রীতি সেল।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ নিন্দা জানায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে বাউল, ফকির, সুফি, তাসাওফপন্থীসহ বিভিন্ন ধারার সমৃদ্ধ অবদান রয়েছে। এই বৈচিত্র্য রক্ষা করা মানে আমাদের মানবিক রাষ্ট্রচিন্তা ও ঐতিহাসিক সম্প্রীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। বাংলাদেশটা সবার—এখানে ভিন্নমতকে দমন নয়, বরং শোনা ও বোঝার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘ধর্মীয় মত বা ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নতা থাকতেই পারে এবং কখনো কখনো তা বিতর্কের সৃষ্টি করতেও পারে। কিন্তু তার উত্তরের পথ কখনোই সহিংসতা বা প্রতিশোধ হতে পারে না। এ দেশের দায়িত্বশীল আলেমসমাজ যুগের পর যুগ যে শান্তিপূর্ণ দাওয়াত, ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সদাচরণের মাধ্যমে দ্বীনের শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসছেন, এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য। সমাজে উত্তেজনা বা ভুল ব্যাখ্যা দেখা দিলে এই শান্তিপ্রিয় আলেমসমাজই মানুষকে সংযম, শান্তি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার পথে রাখার দায়িত্ব পালন করে থাকেন।’
ধর্ম ও সমাজের প্রশ্নে সহিংসতার কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি আরও বলেছে, ‘এই নীতিতে যারা অবিচল থেকেছেন, আমরা তাদের এই অবস্থানের সাথে একাত্ম। শান্তিপূর্ণ দাওয়াত ও জ্ঞানভিত্তিক সংলাপই দ্বীনের প্রকৃত রাহবারি, এ কথাটি আজ আরও বেশি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।’
এনসিপির মিডিয়া সেলের দাবি, ‘ঘটনাবলির নিরপেক্ষ, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করে হামলাকারী ও উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অভিযোগ বা মতভিন্নতার সমাধান হবে আইন, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে, কোনোভাবেই জনতা বা গোষ্ঠীর হাতে নয়। বাউল–ফকির–তাসাওফপন্থীসহ সকল সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করতে হবে। উসকানি, বিভাজন ও সহিংসতার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে—ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্প্রীতি, সংযম ও পারস্পরিক সম্মানের পথ আরও শক্তিশালী করতে হবে।’
গত ৪ নভেম্বর ঘিওরে এক গানের আসরে বাউল শিল্পী আবুল সরকার ‘ধর্মীয় কটূক্তিমূলক’ বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ ওঠে। গত বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর প্রতিবাদে বাউল আবুল সরকারের ভক্তরা সকালে মানববন্ধনের আয়োজন করে। একই সময়ে ‘তৌহিদী জনতা’ ও আলেম-ওলামারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।
রোববার সকালে দুই পক্ষের কর্মসূচির জন্য আলাদা সময় নির্ধারিত হলেও পরস্পর বিরোধী বক্তব্যের জেরে এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আবুল সরকারের অনুসারী ও ‘তৌহিদী জনতার’ পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে চারজন আহত হন।


