দেশের চলমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকটকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ‘বার্নিং ইস্যু’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
সোমবার জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনকালে তিনি সরকারের দেওয়া তথ্যের কঠোর সমালোচনা করেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ আশা করেছিল যে এই মহান সংসদে তাদের বর্তমান দুর্গতি ও জ্বালানি সংকট নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হবে।
কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে জনগণের প্রধান সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলার সুযোগ মিলছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি জনগণের চরম দুর্ভোগের সময় তাদের কথাগুলো সংসদে উপস্থাপন করা না যায়, তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে এখানে উপস্থিত থাকার সার্থকতা কোথায়?
সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতির সঙ্গে তার বিস্তর ফারাক রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একদিকে সংসদে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নেই, অন্যদিকে সংসদের বাইরে সাধারণ মানুষ তেলের জন্য হাহাকার করছে।’
সংকটের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে তিনি উচ্চ আদালতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণেই হাইকোর্টের মতো সংবেদনশীল জায়গায় ভার্চ্যুয়ালি কাজ করতে হচ্ছে। যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিকই থাকত, তবে এমন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো-তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
বিশ্ব পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের প্রভাবের কথা স্বীকার করেও শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধীরা সংকটের সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় এবং গঠনমূলক মতামত দিতে চায়। কিন্তু সরকার সব দায়িত্ব এককভাবে পালন করতে গিয়ে জনদুর্ভোগকে আড়াল করছে।
পরিশেষে, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি স্পিকারের কাছে দাবি জানান, যেন সংসদ নেতার উপস্থিতিতে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত এবং কার্যকর আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সময় বরাদ্দ করা হয়।


