মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের বাংলাদেশে কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে।
ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনে। বুধবার সকালে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সম্প্রচার দিয়েই যাত্রা শুরু করে স্টারলিংক।
স্পেসএক্সের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের পরিসেবা চালুর জন্য মার্কিন উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভিডিও কলে আলোচনা করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এতে স্টারলিংকের পরিসেবা চালুর কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়।
গত মাসে ঢাকায় বেশ কয়েকবার পরীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পর বুধবার স্টারলিংকের যাত্রা শুরু হয় বিনিয়োগ সম্মেলনের মাধ্যমে। স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহার করেই সরাসরি সম্প্রচার করা হয় সম্মেলনের কার্যক্রম। সেখানে উপস্থিত সব অংশগ্রহণকারী সেটি ব্যবহার করতে পেরেছেন।
স্টারলিংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সহজলভ্য হবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি যোগাযোগ স্থাপনেও স্টারলিংকের কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্টারলিংক ইতোমধ্যে বিশ্বের বহু দেশে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো স্টারলিংকের প্রযুক্তি পরীক্ষা চালানো হয়। বিগত সরকার উদ্যোগ নিলেও স্টারলিংকের সেবা চালু করতে বিলম্ব হচ্ছিল নানা কারণে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই বিষয়টি ত্বরান্বিত করতে উদ্যোগ নেয়।
বিভিন্ন পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় গত ২৯ মার্চ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) থেকে বিনিয়োগ নিবন্ধন পায় স্টারলিংক। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। তবে দেশব্যাপী বাণিজ্যিকভাবে ইন্টারনেট সেবা চালু করতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে এনজিএসও (নন-জিওস্টেশনারি অরবিট) নীতিমালার আওতায় লাইসেন্স নিতে হবে।


