বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে শতাধিক সংস্কৃতিকর্মীর বিবৃতি

বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে শতাধিক সংস্কৃতিকর্মীর বিবৃতি
আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ইতালির মেস্ট্রেতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে দৃশ্যমাধ্যম সমাজ। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এ দাবিতে দেওয়া বিবৃতিতে ১২২ জন সংস্কৃতিকর্মী ও দৃশ্যমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন।

সোমবার রাতে ইতালির মেস্ট্রেতে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে অবস্থানকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর হাতে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ করেন বাঁধন। ঘটনার পর সোমবার রাতে  ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওবার্তায় বিষয়টি জানান তিনি। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে তার অবস্থানের কারণে তাকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়।

বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, মেস্ট্রের একটি পার্কে ভাই ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরেন। তাকে লক্ষ্য করে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছোড়া হয় এবং তার মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে।

বাঁধন তখন ইতালিতে ছিলেন ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে। তার অভিনীত রুবাইয়াত হোসাইনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি উৎসবের অরিজন্তি বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে।

মঙ্গলবার ঘটনার পর বাঁধন জানান, তিনি ইতালিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফিরবেন না এবং ঘটনার শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। একই দিন বাংলাদেশের সরকারি পর্যায় থেকেও ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

এ ঘটনার পর দেওয়া বিবৃতিতে দৃশ্যমাধ্যম সমাজ বলেছে, কোনো শিল্পী তার রাজনৈতিক অবস্থান, মতপ্রকাশ কিংবা গণআন্দোলনে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে আক্রমণের শিকার হতে পারেন না। এ ধরনের হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার ওপরও আঘাত।

আরও পড়ুন

দৃশ্যমাধ্যম সমাজ বলেছে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় আজমেরী হক বাঁধনসহ দেশের অনেক শিল্পী অন্যায়, হিংসা, দমন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছিলেন। একজন শিল্পীর স্বাধীনতা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুগত্যের ওপর নির্ভর করে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, একজন শিল্পীর যেমন কথা বলার অধিকার রয়েছে, তেমনি নীরব থাকারও অধিকার রয়েছে। তার মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা যেতে পারে, তবে তাকে অপমান, ভয় দেখানো কিংবা শারীরিকভাবে আঘাত করার অধিকার কারও নেই। রাজনৈতিক মতের বিরোধিতা কখনো সহিংসতার কারণ হতে পারে না।

একজন নারী শিল্পীর ওপর প্রকাশ্যে শারীরিক হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনকে কোনো ধরনের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা যায় না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা সহিংসতা এবং ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুরোনো চর্চারই পুনরাবৃত্তি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহান মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতার জন্য জীবন দেওয়ার শিক্ষা দিয়েছে, আর জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ভয়কে অতিক্রম করে কথা বলার শিক্ষা দিয়েছে। এমন ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার পর কোনো শিল্পীকে তার মতের জন্য ভয় দেখানো, হেনস্তা বা আক্রমণ মেনে নেওয়া যায় না। মানুষের কথা বলার অধিকার, ভিন্নমতের অধিকার এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্তকরণ এবং আইনানুগ বিচারের দাবি জানিয়েছে দৃশ্যমাধ্যম সমাজ। একই সঙ্গে বাঁধনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিল্পীর শরীর কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ক্ষেত্র হতে পারে না এবং তার কণ্ঠ কোনো ভয় দেখানোর কাছে জিম্মি হতে পারে না। মতের বিরোধিতা মত দিয়েই করতে হবে, সহিংসতার মাধ্যমে নয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হচ্ছেন সাইফুল হক ওমি, হুমায়রা বিলকিস, মুনেম ওয়াসিফ, সলিমুল্লাহ খান, আহমেদ ইবনে আরিফ, তাহমিদ চৌধুরী, ফাহিম ইসলাম, মো. আল হাছিব খান, আনন্দ, আলরাফ পারভেজ, তোফাজ্জল হোসেন, ইয়াসির আল হক, রাশেদ শাহরিয়ার, বীথি ঘোষ, সরকার প্রতীক, নাসিফ আমিন, তাসলিমা আখতার, জাহিদুল ইসলাম নাহিদ, মনজুর আল মতিন, সাঈদ উজ্জল, জহিরুল ইসলাম কোচি, খন্দকার তানভীর মুরাদ, সারা আহমেদ, ধ্রুব হাসান, অভিজিৎ শুভ, সৈয়দা নিলিমা দোলা, তানভীর আল আজাদ, শিমুল সালাহউদ্দিন, আবু মুহাম্মদ, সজীব তানভীর, অনার্য মুর্শিদ, মায়েদা তানহা, বিদুষী, মায়েদা রাহমা, ড. আনন এইচ সিদ্দিকী, রহমান মুস্তাফা, ফাহিম আহমেদ, হাবিবুর রহমান, মোশফিকুর রহমান জোহান, ফারজানা জেরী, মুহিব্বুল মুক্তাদির, তানিম, সুস্মিতা রায় সুপ্তি, মিশুক আশরাফুল আওয়াল, সীনা দত্ত, আবদুল হালিম চঞ্চল, মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, তুরিন, এডিলা ফরিদ, গোলাম রাব্বানী, আরিফ নূর, আবদুল্লাহ বায়েগ, তানিম নূর, মো. রায়হানুর রহমান, রাফসান আহমেদ, রাকিবা আমাতুল করিম, শায়ান, মো. সাইফুল ইসলাম, নেয়ামত উল্লাহ মাসুম, আয়মান আসিব স্বাধীন, ফারিহা শামস শিউতি, আবিদ সরকার সোহাগ, লাবণী মণ্ডল, ফেরদৌস আরা রুমি, নাজমুস সাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, রফিকুজ্জামান ফরিদ, মুশফিকুর রহমান, রেবেকা নীলা, মোহাম্মদ রোমেল, অনুপ কুণ্ডু, মাহতাব উদ্দিন, রুবায়েত মাহমুদ, মঞ্জুরুল ইকরাম, আবদুল্লাহ সেরু, মুহাম্মদ কাইয়ুম, মারিয়াম রূপা, এম হাসান, ফরহাদুল আলম, আমিরুল রাজীব, তাহমিদাল জামি, মোহাম্মদ মনির হোসেন, আরিফ সোহেল, শাহ নেওয়াজ শৈকত, মাহফুজ চৌধুরী, মো. তানভীর রহমান, মো. মনোয়ার হোসেন, অনুপম শৈকত শান্ত, কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, তন্ময় কর্মকার, অধ্যাপক ড. হাসান আশরাফ, মারজিয়া মিথিলা, আনিস রায়হান, মনোজ প্রামাণিক, অরুণিমা ইসলাম, শাহ নেওয়াজ খান সিজেইউ, মীর লোকমান, জাহীন ফারুক, আমিন সাদিক এম আলম, আবুল খায়ের মোহাম্মদ আতীকুজ্জামান, রাহাত মুস্তাফিজ, তানজিম ওয়াহাব, স্নিগ্ধা সুলতানা, সায়দিয়া গুলরুখ, রুবিন হক, হাসান রোবায়েত, তানহা জাফরীন, নাঈম উল হাসান, মো. আবদুল ওয়াহাব সাকিন, মোমিন সেতু, মো. তৌহিদুল ইসলাম, মাহমুদুল রাফিক, নাজমুল আহমেদ, তাজনুভা জাবীন, আনুশেহ আনাদিল, মোজাহিদ মো. জিহাদ, ফিরোজ আহমেদ, জান্নাতুল মাওয়া, তানভীর আহসান, মো. মুন্তাসির রহমান, ইয়াসির আরাফাত, জান্নাতুল মাওয়া, মাহরুখ মহিউদ্দিন, এ এস এম রেজাউর রহমান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর