স্মৃতিচারণে সালমান শাহ: যে ইমন আমাদের সঙ্গে আর বড় হননি

স্মৃতিচারণে সালমান শাহ: যে ইমন আমাদের সঙ্গে আর বড় হননি
salman Shah
Advertisement
Advertisement

আমার নামের মধ্যে ইমন আছে। সালমান শাহর আসল নামেও ছিল ইমন, শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। ছোটবেলায় এই মিলটা আমার কাছে নিছক কাকতাল ছিল না, বরং এক ধরনের গোপন আনন্দ। আমি জন্মেছি সুনামগঞ্জে, তিনি জন্মেছিলেন সিলেটে। ফলে নামের সঙ্গে অঞ্চল মিলিয়ে তাকেও খুব সহজে আমাদের দিককার একজন মানুষ বলে ভাবতাম। শৈশবের মনস্তত্ত্ব তো ইতিহাসের কড়াকড়ি মানে না। একটা নাম, একটা অঞ্চল, একটা মুখ দিয়েই আমরা নায়কদের নিজেদের মানুষ বানিয়ে ফেলি।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ যখন মুক্তি পেল, আমি তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে ছবিটি যে কী পরিমাণ জনপ্রিয় হয়েছিল, আজকের সময়ে বসে সেটা বোঝানো কঠিন। আমরা তখন প্রেম করার বয়সে পৌঁছাইনি, কিন্তু প্রেম কেমন হতে পারে, কাউকে না-পাওয়ার কষ্ট কী, ভালোবাসার জন্য কতটা অপেক্ষা করা যায়, সেসব কল্পনা করার বয়সে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমরা প্রেমপত্রের যুগে বড় হয়েছি। দূর থেকে কাউকে দেখা, বন্ধুর হাতে চিঠি পাঠানো, উত্তর আসবে কি না সেই উৎকণ্ঠার মধ্যেই আমাদের প্রেমের প্রাথমিক ব্যাকরণ তৈরি হচ্ছিল। সেই কল্পনার জগতে সালমান শাহ খুব দ্রুতই একটি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন।

একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে এখন ফিরে তাকালে এই ছবিটি নিয়ে আমার নিজের একটা দ্বিধাও আছে। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অন্য দেশের সফল গল্প ধার করা, অনুকরণ করা কিংবা প্রায় সরাসরি তুলে আনার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। এই অনুকরণ-সংস্কৃতি নিয়ে আমার আপত্তি আগেও ছিল, এখনো আছে। তবে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ গোপনে নকল করা ছবি ছিল না। আমির খান ও জুহি চাওলা অভিনীত ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর পুনর্নির্মাণের স্বত্ব কিনেই ছবিটি তৈরি হয়েছিল। মৌসুমী ও সালমান শাহ, দুজনেরই বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে এই ছবির মাধ্যমে।

দুই ছবির মূল গল্প প্রায় একই। বিরোধী দুই পরিবারের সন্তান রাজ ও রেশমি একে অন্যকে ভালোবাসে, পরিবার তাদের আলাদা করতে চায়, তারা পালিয়ে নিজেদের জীবন গড়ার চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত সেই প্রেম ট্র্যাজেডিতে গিয়ে শেষ হয়। এখন আমার কাছে বেশি আকর্ষণীয় প্রশ্ন হলো, অন্য দেশের একটি গল্প আমাদের এত নিজের কেন মনে হয়েছিল? তখন ভারতীয় হিন্দি ছবি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে নিয়মিত সরাসরি মুক্তি পেত না। ফলে একই কাহিনি যখন সালমান শাহ ও মৌসুমীর মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এবং আমাদের প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে এলো, তখন তা অন্য এক সামাজিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো। গল্পের উৎস গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একটি সমাজ সেই গল্পকে কীভাবে নিজের আবেগ ও স্মৃতির মধ্যে গ্রহণ করে, চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

১৯৯৬ সালে আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। বয়সটা এমন, যখন শৈশব পুরোপুরি শেষ হয়নি, অথচ কৈশোরের অস্থিরতা, কৌতূহল আর আবেগ দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে। সালমান শাহর মৃত্যুর খবরটি প্রথম ঠিক কোন মুহূর্তে শুনেছিলাম, এত বছর পর সময়টা নির্ভুল করে বলতে পারব না। তবে দৃশ্যটা মনে আছে। আমরা মাঠে খেলছিলাম। সন্ধ্যার দিকে, সম্ভবত বিটিভির বাংলা সংবাদের সময়, হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ল, সালমান শাহ নাকি আত্মহত্যা করেছেন। এখনকার মতো কয়েক মিনিটের মধ্যে শত খবর, ছবি, ব্যাখ্যা আর গুজব সামনে চলে আসার ব্যবস্থা ছিল না। একটা সংবাদ মানুষের মুখে মুখে ছড়াত, তারপর অপেক্ষা করতে হতো পরের সংবাদ কিংবা পরদিনের পত্রিকার জন্য। আমার মনে আছে, পুরো এলাকায় যেন শোক নেমে এসেছিল। বন্ধুদের একটাই প্রশ্ন, কী হয়েছে, কেন হয়েছে, সত্যিই কি সালমান শাহ আর নেই?

তার মৃত্যুর কিছুদিন পর মুক্তি পায় ‘সত্যের মৃত্যু নেই’। সিলেটে বড় পর্দায় ছবিটি দেখেছিলাম। তার আগেই শুনেছিলাম, ছবিতে সালমানের চরিত্র জয় ফাঁসির মুখোমুখি হবে। ফলে পর্দায় যখন সেই তরুণটিকে ফাঁসিকাষ্ঠের দিকে এগিয়ে যেতে দেখছি, বাস্তবে মাত্র কয়েক দিন আগে মারা যাওয়া সালমান শাহ আর পর্দার জয়কে আমার কিশোর মনে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। হলের ভেতর কান্না, চাপা গুঞ্জন এবং একটা ভারী আবহ এখনো মনে আছে। অনেক পরে চলচ্চিত্রকে পেশা হিসেবে বুঝতে গিয়ে উপলব্ধি করেছি, আমরা সেদিন শুধু একটি ছবি দেখছিলাম না। একটি আকস্মিক মৃত্যুকে হাজার মানুষের আবেগ ও পর্দার কাহিনি কীভাবে একসঙ্গে সামাজিক শোকে রূপ দিতে পারে, তারও এক বিরল অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম।

তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রশিল্পও হঠাৎ বড় সমস্যায় পড়ে। বেশ কয়েকটি ছবির কাজ তখন অসমাপ্ত। সেই সময়ের বিনোদন পত্রিকায় আমরা পড়তাম, সালমানের মতো দেখতে তরুণ খোঁজা হচ্ছে, কেউ তার মতো চুল কাটছে, কেউ তার মতো পোশাক পরে বদলি শিল্পী হওয়ার আশায় ঘুরছে। সারা দেশ থেকে হাজার হাজার তরুণ প্রস্তুত হয়েছিল কি না, তার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাই না। কিন্তু অসমাপ্ত ছবিতে বদলি শিল্পী ব্যবহারের ঘটনা সত্য। ‘বুকের ভিতর আগুন’-এ ফেরদৌসকে এবং ‘স্বপ্নের নায়ক’-এ আমিন খানকে যুক্ত করা হয়। ‘শুধু তুমি’, ‘প্রেম পিয়াসী’সহ কয়েকটি ছবির কাজও সালমান শেষ করে যেতে পারেননি। চলচ্চিত্রশিল্প যেন কিছুদিন ধরে অনুপস্থিত একজন মানুষকে কোনোভাবে পর্দায় ধরে রাখার চেষ্টা করছিল।

সেই সময় আরেক ধরনের ভয়াবহ খবরও পড়েছিলাম। সালমান শাহর মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে কয়েকজন ভক্ত আত্মহত্যা করেছেন। দীর্ঘদিন এটাকেও চটকদার পত্রিকার অতিরঞ্জন বলে ভেবেছি। পরে দেখেছি, মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও কয়েকজন ভক্তের আত্মহত্যার কথা এসেছে, যদিও নির্ভরযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। আমি এটিকে তার জনপ্রিয়তার রোমাঞ্চকর প্রমাণ হিসেবে দেখতে চাই না। বরং কৈশোর ও তারুণ্যের আবেগের মধ্যে একজন চলচ্চিত্র তারকা কত গভীরভাবে ঢুকে যেতে পারেন, তার বেদনাদায়ক সাক্ষ্য হিসেবেই দেখি।

আরও পড়ুন

আজ তার ছবিগুলো ফিরে দেখলে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় সালমান শাহর পুরুষ চরিত্রগুলোর ধরন। তার নায়কত্ব সবসময় পেশিশক্তির ওপর দাঁড়ানো ছিল না। ‘এই ঘর এই সংসার’-এ মিন্টুর চারপাশে আপা, দুলাভাই, ভাই, স্ত্রী এবং সংসারের টানাপোড়েন। ‘স্বপ্নের পৃথিবী’-র মাসুম অত্যাচারী বাবার সন্তান হয়েও বাবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিপীড়িত মানুষের পাশে যায়। ‘স্বপ্নের ঠিকানা’-য় ধনী ঘরের সুমনের সঙ্গে দরিদ্র সুমীর প্রেমের সামনে এসে দাঁড়ায় শ্রেণিবৈষম্য। ‘আনন্দ অশ্রু’র খসরু আবার ভাবুক, গানপাগল, প্রেমে পড়া এক তরুণ, যে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অর্থাৎ তার চরিত্রে পুরুষের শক্তির পাশাপাশি কোমলতা, দায়িত্ব, অসহায়ত্ব এবং অন্যের প্রতি দায়ও ছিল।

সম্ভবত আমাদের প্রজন্মের প্রেমের ধারণা তৈরিতেও এই গল্পগুলোর ভূমিকা ছিল। আমাদের দেখা বাণিজ্যিক ছবিতে ভালোবাসা খুব কমই শুধু দুজন মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার ছিল। তার সঙ্গে মা-বাবা, ভাইবোন, সামাজিক অবস্থান, পরিবারের সম্মান, অপেক্ষা, ত্যাগ ও দায়িত্ব জড়িয়ে থাকত। আজকের তরুণদের সম্পর্কের ধরন দেখে আমাদের প্রজন্ম মাঝেমধ্যে তির্যক মন্তব্য করে, যদিও নিজের সময় দিয়ে অন্য সময়কে বিচার করা ন্যায্য নয়। কিন্তু আমাদের প্রেমের কল্পনা যে এমন গল্পের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, যেখানে ভালোবাসার অর্থ শুধু কাউকে পাওয়া নয়, চারপাশের সম্পর্কগুলোর দায়ও নেওয়া, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই।

এই ব্যক্তিগত স্মৃতির বাইরে গিয়ে তখনকার বাংলাদেশকে দেখলে সালমান শাহর উত্থানের আরেকটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। নব্বইয়ের মাঝামাঝি দেশে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের বয়স ছিল ১৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। ১৯৯৪ সালে দেশে প্রায় দেড় হাজার প্রেক্ষাগৃহ ছিল। নব্বইয়ের দশকে বছরে গড়ে প্রায় ৮০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি মুক্তি পেত এবং প্রতিদিন দশ লাখের বেশি মানুষ প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখত। ১৯৯৫ সালেও মাত্র ৮ শতাংশ পরিবারের নিজস্ব টেলিভিশন ছিল। অর্থাৎ বিনোদনের জগৎ আজকের মতো অসংখ্য পর্দা ও মাধ্যমে ভাগ হয়ে যায়নি। একটি জনপ্রিয় ছবি, গান কিংবা নায়ক একই সময়ে শহর, মফস্বল ও গ্রামের বিপুল মানুষের যৌথ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হতে পারতেন।

সালমান শাহ এই বিশাল দর্শকগোষ্ঠীর নায়ক হয়েও শুধু প্রচলিত গণদর্শকের মধ্যে আটকে থাকেননি। তার চুলের ছাঁট, পোশাক, রোদচশমা, চলাফেরা, সংলাপ বলার স্বাভাবিকতা এবং আবেগ প্রকাশের ভঙ্গির মধ্যে শহুরে মধ্যবিত্ত তরুণও নিজের সময়ের প্রতিচ্ছবি পেয়েছিল। একদিকে তার ছবিতে বাংলাদেশের পরিচিত পরিবার, গ্রাম, শ্রেণি ও সামাজিক সংঘাত, অন্যদিকে পর্দায় দাঁড়ানো তরুণটি দেখতে এবং আচরণে নতুন। একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আমার কাছে সালমান শাহর সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক সাফল্য সম্ভবত এখানেই। তিনি পরিচিত বাংলাদেশের গল্পের মধ্যে বদলে যেতে থাকা বাংলাদেশের তরুণটিকে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন।

এরপর মৃত্যু সেই চেহারাটিকেই স্থির করে দিল। ১৯৯৩ সালে যে ১৫ বছরের কিশোর তাকে প্রথম দেখেছিল, আজ তার বয়স ৪৮; তখন যে ২০ বছরের ছিল, সে এখন ৫৩। সেই দর্শকের জীবন বদলেছে, পরিবার হয়েছে, সন্তান বড় হয়েছে। কিন্তু তারা সালমান শাহকে কখনো মধ্যবয়সী হতে দেখেনি। তার দীর্ঘ ব্যর্থতা, তারকা হিসেবে ক্ষয় কিংবা নতুন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই, কিছুই আমাদের স্মৃতির অংশ হতে পারেনি।

প্রযুক্তি পরে সেই স্মৃতিকে নতুন পথ দিয়েছে। এক প্রজন্ম তাকে প্রেক্ষাগৃহে দেখেছে, পরের প্রজন্ম টেলিভিশন ও ঘরোয়া ক্যাসেটে পেয়েছে, আর আজকের তরুণেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গান, দৃশ্য, পোশাক এবং চুলের ছাঁট নতুন করে আবিষ্কার করছে। একই সময়ে তার মৃত্যুর বিচার নিয়ে পরিবারের দীর্ঘ লড়াইও শেষ হয়নি। ২০২৬ সালেও মামলাটির তদন্ত চলছে। এসব ঘটনা তার নামকে সংবাদে ফিরিয়ে আনে, কিন্তু আমার কাছে তার দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির মূল কারণ মৃত্যুর রহস্য নয়। রহস্য একজন মৃত তারকাকে আলোচনায় রাখতে পারে, একটি প্রজন্মের স্মৃতি তৈরি করতে পারে না।

পরে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি, চলচ্চিত্রকে পেশা করেছি, পৃথিবীর নানা ধরনের ছবি দেখে সিনেমা ও ভালোবাসা সম্পর্কে নিজের বিচার বহুবার বদলেছি। সালমান শাহও একসময় শৈশবের স্মৃতিতে খানিকটা দূরে সরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে নিয়ে আবার ভাবতে গিয়ে, অন্য মানুষের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, প্রায় সবার কাছেই যেন আলাদা একটা সালমান শাহ আছে। কারও প্রথম প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া, কারও প্রথম প্রেমের গান, কারও রঙিন তারকা-ছবি, কারও চুলের ছাঁট, কারও মনে শাবনূরের সঙ্গে কোনো দৃশ্য। অসংখ্য ব্যক্তিগত স্মৃতি এক জায়গায় মিললেই একজন নায়ক একটি সময়ের সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে পরিণত হন।

সালমান শাহর সময়ের বাংলাদেশ ভালোবাসাকে আজকের বাংলাদেশের চেয়ে ভালো বুঝত, এমন সরল দাবি আমি করব না। কিন্তু সেই সময়ের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র এমন একটি সমাজের গল্প বলত, যেখানে আধুনিক হওয়ার মধ্যেও পরিবার ছিল, প্রেমের পাশে দায়িত্ব ছিল, পুরুষের ভেতরে কোমলতার জায়গা ছিল এবং বিদ্রোহ মানেই সব সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। সম্ভবত এই কারণেও তার ছবিগুলো আজ ফিরে দেখলে শুধু নব্বইয়ের দশকের পুরোনো চলচ্চিত্র বলে মনে হয় না, তাদের ভেতরে আমাদের নিজেদের বেড়ে ওঠার একটা সামাজিক ইতিহাসও খুঁজে পাওয়া যায়।

সালমান শাহ চলে যাওয়ার পর আমরা সময়ের যাত্রায় বহু দূর চলে এসেছি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বদলেছে, ভালোবাসার ভাষা বদলেছে, আমিও পঞ্চম শ্রেণির সেই বয়স থেকে জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি। কিন্তু আমার নামের ভেতরে যে ইমন আছে, তার সঙ্গে ছোটবেলায় মিল খুঁজে পাওয়া পর্দার সেই ইমনটিকে স্মৃতি আর কখনো বয়স বাড়াতে দেয়নি।

লেখকঃ আবু শাহেদ ইমন (চলচ্চিত্র নির্মাতা)

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর