রাজধানীর সবুজবাগে বান্ধবীর বাসায় সিফাতুল্লাহ (৩০) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
রোববার বিকালে সবুজবাগ আদর্শপাড়া বড়ইতলা ব্রিজের কাছের একটি গার্মেন্টস গলির বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সিফাতুল্লাহ যাত্রাবাড়ী ধোলাইপাড় এলাকার জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং কিছুদিন আগেই কাতার থেকে দেশে ফিরেন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা নাজিফা শেখ নেহা নামে এক তরুণী জানান, তিনি বদরুন্নেসা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। সিফাতুল্লাহ তার বন্ধু ছিলেন এবং তাদের বিয়ে করার কথা ছিল। রোববার সিফাতুল্লাহ তার ৫তলার সাবলেট বাসায় যান। এর কিছুক্ষণ পর জয় নামে স্থানীয় এক যুবক ওই বাসায় উপস্থিত হন।
নেহা জয়কে ‘বড় ভাই’ বলে ডাকতেন। জয় সেখানে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে জয়সহ ৫-৬ জন মিলে সিফাতুল্লাহকে নিচে নামিয়ে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান। পরে নেহা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
বাসাটির মূল ভাড়াটিয়া হাছনা জানান, তিনি এক রুমে থাকেন এবং পাশের রুমটি নেহাকে সাবলেট দিয়েছেন। নেহা গত ১ জুলাই ‘সাজিদ’ নামে এক ছেলেকে স্বামী পরিচয় দিয়ে রুমটি ভাড়া নিয়েছিলেন। পরে জানা যায় তারা স্বামী-স্ত্রী নন, প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল এবং পরবর্তীতে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এর পর থেকে সিফাতুল্লাহ ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।
রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ফোনে ঘটনাটি জানতে পেরে হাছনা মুগদা হাসপাতালে গিয়ে সিফাতুল্লাহকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।
তিনি জানান, নেহা নামে ওই তরুণী ১ জুলাই সাজিদ নামে এক ছেলেকে স্বামী পরিচয় দিয়ে ৫ম তলায় একটি রুম ভাড়া নেয়। এরপর জানতে পারি তারা স্বামী স্ত্রী না। প্রেমিক ছিল। তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এরপর থেকে সিফাতুল্লাহ নেহার বাসায় আসা যাওয়া করত। তাদের মধ্যে কি সম্পর্ক তা জানা নেই।
সিফাতুল্লাহর বাবার নাম জয়নাল আবেদিন। তার বাসা যাত্রাবাড়ী ধোলাইপাড় এলাকায়। ব্যবসায়ী তিনি। কাতার থেকে কিছুদিন আগেই দেশে এসেছেন।
এই ঘটনায় জয়ের সহযোগী আহত রাব্বির দাবি, ওই বাসায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা সেখানে গেলে সিফাতই প্রথম তাদের ওপর চড়াও হন এবং ছুরিকাঘাত করেন। পরবর্তীতে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সবুজবাগ থানায় অবগত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইয়াসিন ও রাব্বি নামে দুইজন আহত হয়েছেন। তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


