সালমান শাহর অভিনয়জীবন স্থায়ী হয়েছিল মাত্র চার বছর। কিন্তু ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার মৃত্যুর পরও একে একে মুক্তি পেতে থাকে তার সিনেমা। অভিনয় করেছিলেন মোট ২৭টি চলচ্চিত্রে। এর কয়েকটি তার মৃত্যুর পর মুক্তি পায়, কারণ নির্মাতারা তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করে সিনেমাগুলো পূর্ণ করেছিলেন।
মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পর, ১৯৯৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় ‘সত্যের মৃত্যু নেই’। এটি ছিল সালমান শাহর শেষ পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র। একই বছর মুক্তি পায় ‘জীবন সংসার’ ও ‘মায়ের অধিকার’। এরপর তার মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর তালিকায় যুক্ত হয় ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’।
১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘শুধু তুমি’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’। সালমান শাহর মৃত্যুর পর তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করে সিনেমাগুলো মুক্তি দেওয়া হয়।
ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘বুকের ভিতর আগুন’ ছিল সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর একটি। তার মৃত্যুর পর ফেরদৌস আহমেদ তার চরিত্রে অভিনয় করে সিনেমাটির কাজ শেষ করেন।
‘স্বপ্নের নায়ক’ও ছিল আরেকটি অসমাপ্ত চলচ্চিত্র। সিনেমাটির যে অংশের শুটিং বাকি ছিল, সেখানে সালমান শাহর পরিবর্তে অভিনয় করেন আমিন খান। পরে তার মৃত্যুর পর সিনেমাটি মুক্তি পায়।
সালমান শাহ অভিনীত ‘শুধু তুমি’, ‘প্রেম পিয়াসী’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’ও তার মৃত্যুর পর মুক্তি পায়, যদিও তিনি এগুলোর কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। ‘আনন্দ অশ্রু’তে সালমান শাহর আগে ধারণ করা ফুটেজ ব্যবহার করে সিনেমাটি সম্পন্ন করা হয়।
আরেকটি অসমাপ্ত সিনেমা ‘কে অপরাধী’ সালমান শাহর মৃত্যুর পর হাতে নেন ওমর সানি। সিনেমাটির কতটা কাজ তখন শেষ হয়েছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তাই প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক কোনো সূত্র ছাড়া নির্দিষ্ট শতাংশ উল্লেখ না করাই নিরাপদ।
‘প্রেমের বাজি’ অসমাপ্তই থেকে যায়। সিনেমাটি আর কখনো মুক্তি পায়নি।
সালমান শাহর গায়ক হিসেবেও অভিষেক হওয়ার কথা ছিল ‘ঋণশোধ’ সিনেমার মাধ্যমে। সিনেমাটি মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ না হলেও তার রেকর্ড করা গানটি সংরক্ষণ করা হয়। পরে গানটি ব্যবহার করা হয় ‘আলী কেন গোলাম’ সিনেমায়। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন অমিত হাসান ও শাহনাজ।
সালমান শাহর শেষ সিনেমাগুলো রেখে গেছে এক গভীর প্রশ্ন—তিনি বেঁচে থাকলে তার সিনেমা কোথায় গিয়ে পৌঁছাত?


