স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্য আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিত সংখ্যায় বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। মাইক ও ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচারের সময়ও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ভোটারদের থেকে এনআইডি ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ইসি সচিব আখতার আহমেদের সই করা আলাদা আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘ এক দশক দলীয়ভাবে ভোটের পর এবার নির্দলীয় প্রতীকে এসব নির্বাচন হবে। ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের জন্য নতুন করে বিধিমালা জারি করা হয়েছে।
নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। উপজেলা নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে, তবে পুরো নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
প্রচারসামগ্রী সাদা-কালো হতে হবে। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। এসব সামগ্রীতে মুদ্রণের তারিখও থাকতে হবে।
নির্বাচনী প্রচারে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। একাধিক মাইক ব্যবহার করা যাবে না। একই সময়ে ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচার চালানো যাবে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো যাবে। তবে এর ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে।
আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটার বা তার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের এনআইডি ও এমএফএস নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ ওঠার পর ইসি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি নিষিদ্ধ করা হলো।
প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ তালিকায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তি, সংসদ সদস্য ও সিটি মেয়র রয়েছেন।
মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রশাসকরাও এর আওতায় থাকবেন। প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
বিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা বহাল রয়েছে।
উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচনী ক্যাম্পের সংখ্যাও সীমিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি ক্যাম্প করা যাবে। পৌরসভা নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে এবং দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানো যাবে। জেলা পরিষদে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।
এক উপজেলার সব ইউপির ভোট একত্রে
এদিকে, সোমবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কয়েক ধাপে হবে। তবে উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন হবে। একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে, সেগুলো একই সঙ্গে ভোট হবে।
তিনি বলেন, একটি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে একসঙ্গে ভোট নিয়ে বাকিগুলো অন্য ধাপে করলে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। তাই এক উপজেলার সব ইউনিয়নে একই সঙ্গে ভোট হবে এবং নির্বাচন হবে কয়েক ধাপে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড ইস্যু নিয়ে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এবার অনলাইনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার চিন্তা করছে ইসি।
এদিকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।


