পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারী বৃষ্টি থেকে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ১৮০ জন উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের পার্বত্য অঞ্চল খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বাসিন্দা। বন্যায় অন্তত ৩০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে এর পাঁচ ক্রু নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
অন্যদিকে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নয় জন এবং উত্তর গিলগিট-বালতিস্তানে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ২১ আগস্ট পর্যন্ত পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের কয়েকটি এলাকাকে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
বুনের এলাকার এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বন্যার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন।
আজিজুল্লাহ নামের ওই ব্যক্তি বলেন, ‘বন্যা এসেছিল কেয়ামতের মতো। আমি পাহাড় ধসে পড়ার মতো বিকট শব্দ শুনতে পেলাম। দৌড়ে বাইরে গিয়ে দেখি, পুরো এলাকা কাঁপছে। যেন পৃথিবী এখনই শেষ হয়ে যাবে। পানির তীব্র তোড়ে মাটি কাঁপছিল, মনে হচ্ছিল মৃত্যু আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।’
খাইবার পাখতুনখাওয়ার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়া সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন খান বলেছেন, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী বাজাউরে যাওয়ার সময় খারাপ আবহাওয়ার কারণে এম-১৭ হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
অন্যদিকে, ভারতীয়-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের হিমালয়ের একটি গ্রামে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৬০ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার উদ্ধারকারীরা কাদা ও ধ্বংসাবশেষ থেকে বেশকিছু মরদেহ উদ্ধার করে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত হয়। ভূমিধস এবং বন্যা এ অঞ্চলে সাধারণ ঘটনা এবং এবারের মৌসুমে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে।


