চট্টগ্রামের রাউজানে উপড়ে পড়া একটি গাছ নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের হাতে থাকা কাঠের টুকরার আঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার নাম মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান সওদাগর (৩৭)। রোববার রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুল মান্নান রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জানিপাথর এলাকার কবির আহমদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম শাহজাহান, নিহতের জেঠাতো ভাই বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ঈদুল আযহার আগের দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগে একটি ‘শিশু গাছ’ উপড়ে পড়ে। আব্দুল মান্নানের বড় ভাই লোকমান সওদাগর গাছটি কিনে নেন। তবে শাহজাহান ওই গাছটি নিজের বলে দাবি করলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয় এবং সিদ্ধান্ত লোকমান সওদাগরের পক্ষেই আসে বলে তিনি দাবি করেন।
এই বিরোধের জেরে গত বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাহানের সঙ্গে মান্নানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মান্নান তার দোকানের পাশে গেলে শাহজাহান একটি কাঠের খণ্ড দিয়ে তার মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করেন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় পরে তাকে নগরীর সাজিনাস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই লোকমান সওদাগর বলেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণে আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শাহজাহান এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং তার কাছে অস্ত্রও রয়েছে।’ তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, ‘শাহজাহান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে লিপ্ত কিনা জানি না। অভিযোগ দিতে আসলে বিষয়টি তাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জেনে তদন্ত করব।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজান উপজেলায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে রাউজানের বিভিন্ন ইউনিয়নে ও পৌর এলাকায় রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধে অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে হলদিয়া ইউনিয়নেই এটি তৃতীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
২০২৫ সালে ১ এপ্রিল হলদিয়া ইউনিয়নের তীতা গাজীপাড়ায় ‘জমি নিয়ে বিরোধের জেরে’ মা ও ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছিলেন প্রকৌশলী মুহাম্মদ নুরুল আলম বকুল। এ ছাড়া ২০২৫ সালের (১৫ মার্চ) হলদিয়া ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের হামলায় কমর উদ্দিন জিতু নামে এক যুবদলকর্মী নিহত হয়েছিলেন।


