উপস্থাপক, অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা— অভিনয়ের ক্ষেত্রে সবসময় বেছে বেছে কাজ করেন। ‘আয়নাবাজী’, ‘তুফান’সহ যে কয়টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, তার সব কয়টিতেই অভিনয়, গ্ল্যামার— সব দিয়েই দর্শকদের নজর কেড়েছেন। তিনি এই ঈদে আসছেন ‘বনলতা সেন’ নিয়ে।
মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত চলচ্চিত্রটি বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাশের অনন্য সৃষ্টি ‘বনলতা সেন’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। সিনেমাটিতে এক ধ্রুপদী রহস্য নিয়ে হাজির হচ্ছেন নাবিলা।
এই লাক্স তারকার বনলতা সেন হয়ে ওঠার গল্পটি বেশ নাটকীয়। নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল শুরুতে নাবিলাকে অন্য একটি চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাকে চিত্রনাট্য দেওয়া হয় পড়ার জন্য। সেটি পড়ে মুগ্ধ হয়ে যান। তিনি পরিচালককে সোজাসুজি বলেন, ‘আমাকে যে চরিত্রের কথা বলেছেন, বিরতির পর ওই ধরনের চরিত্র দিয়ে ফিরতে চাইছিলাম না। তবে আপনি যদি আমাকে বনলতা সেন বলতেন, তাহলে এককথায় রাজি হয়ে যেতাম’। এরপরই শুরু হয় আসল পরীক্ষা। নির্মাতার মন জয় করতে নাবিলাকে দিতে হয়েছে তিন-তিনটি অডিশন। শেষ পর্যন্ত তার মধ্যেই বনলতাকে খুঁজে পান পরিচালক।
নাবিলার মতে, বনলতা সেন চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তোলা ছিল অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের মনে এই চরিত্রটিকে নিয়ে একেকজনের একেক রকম কল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বনলতা সেন আসলে একটা কোয়েশ্চেন, সবার জিজ্ঞাসা’। সিনেমাটিতে এই রহস্য আর কবির কল্পনাকেই ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিচালক উজ্জ্বল অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে কাজ করেন এবং তার সিনেমা অনেকটা কবিতার মতো। ছবিতে কবির চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার এবং অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন সোহেল মণ্ডল।
সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছিল প্রায় আড়াই বছর আগে। কিছু কারিগরি কাজ এবং অন্যান্য জটিলতায় মুক্তি পিছিয়ে যায় বারবার। তবে সম্প্রতি পুরো টিম সিনেমাটি দেখে মুগ্ধ হন এবং নাবিলাই নির্মাতাকে দ্রুত মুক্তির জন্য তাগিদ দেন। তিনি মনে করেন, দর্শক এখন ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের সিনেমা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত এবং ঈদই এই রহস্যময় সিনেমাটি মুক্তির সেরা সময়।
বর্তমানে তিনি চ্যানেল আইয়ের রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘স্টার শিপ ফিউশন কিচেন’-এর উপস্থাপনায় ব্যস্ত। ২০১৮ সালে বিয়ের পর বর্তমানে স্বামী, সন্তান ও সংসার নিয়ে তার সময় কাটছে।


