অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও দক্ষ করে গড়ে তোলা, সেবার মান বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার নির্দেশনা দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
বৃহস্পতিবার বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অভ্যন্তরীণ নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বিআইডব্লিউটিএ’র কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। একই সঙ্গে সেবার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় তিনি বিআইডব্লিউটিএ’র কার্যক্রমকে আরও জনকল্যাণমুখী ও ফলপ্রসূ করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে রয়েছে-ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যয়-সাশ্রয়ীভাবে পরিচালনা করে অধিক প্রয়োজনীয় নৌপথে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন নিশ্চিত করা; নৌপথে চলাচলের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বয়া, বাতি, বিকন ও অন্যান্য নৌ-চিহ্ন আরও দৃশ্যমান করতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ ও বন্দর বিভাগের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৭ম দফা পর্যন্ত ইজারায় অনিষ্পন্ন ঘাটসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রদত্ত নির্দেশনাসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএ’র সেবার গুণগত মান আরও বৃদ্ধি পাবে, রাজস্ব আহরণ সম্প্রসারিত হবে, নৌপথের নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর, নিরাপদ ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে।
সভায় বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।
উপস্থাপনায় ড্রেজিং কার্যক্রম, নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, নদীবন্দর ব্যবস্থাপনা, ইজারা কার্যক্রম, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সেবার ডিজিটাল রূপান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।
এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াসহ বিআইডব্লিউটিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


