লেখক, গবেষক ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরের মরদেহ সোমবার সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হলে সর্বস্তরের জনতা তাকে জানান শেষ শ্রদ্ধা।
বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, এবং পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বদরুদ্দীন উমরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও তাকে শ্রদ্ধা জানান।
উমরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সিআর আবরার, আসিফ নজরুল, শারমিন এস মুরশিদ, ফরিদা আখতার, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এনসিপির নাহিদ ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া আরও অনেকেই শহীদ মিনারে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উমরের মরদেহ নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। সেখানে বাদ জোহর হবে তার নামাজে জানাজা। উমরের শেষ শয্যা হবে জুরাইন গোরস্থানে, পিতা আবুল হাশিমের কবরের পাশে।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন এই বামতাত্ত্বিক। রোববার সকালে অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
তার মৃত্যুতে দেশের শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

উমর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) -এর নেতা হিসেবে দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হলেও তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।
২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি ছিলেন তিনি।
উমর ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বর্ধমান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আবুল হাশিম এবং মাতার নাম মাহমুদা আখতার মেহেরবানু বেগম। পিতার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সাম্যবাদী হলেও পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা সত্ত্বেও ১৯৫০ সালে পরিবারসহ পূর্ব পাকিস্তানে আসেন এবং ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
শিক্ষাজীবন শুরু করেন বর্ধমান টাউন স্কুল থেকে ১৯৪৮ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে। ১৯৫০ সালে বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে দর্শনে স্নাতক সম্মান এবং ১৯৫৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলোসফি, পলিটিক্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স (পিপিই) ডিগ্রি অর্জন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন উমর। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সাবেক সভাপতি, মাসিক প্রবন্ধ পত্রিকা ‘সংস্কৃতি’র প্রতিষ্ঠা, কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ছিলেন উমর। পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তার অবস্থান ছিল।


