ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় ‘আওয়ামী দোসর’ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনাকে আমরা ভালো করেই জানি একজন সৎ এবং দক্ষ ব্যক্তি। আপনার কাছে অনুরোধ, যারা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের সঙ্গে যে আওয়ামী প্রেতাত্মাদের যোগসাজশ ছিল, তারা যেন ২০২৬ সালের নির্বাচন পরিচালনায় কোনোভাবেই অংশগ্রহণ করতে না পারে। তারা যেন দায়িত্ব পালন না করতে পারে, সেই দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।’
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
অবস্থান কর্মসূচির সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতন্ত্র ফোরামের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিম। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওবাদুর রহমান টিপু। এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ দলীয় নেতারা।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র এনে দিয়েছে মুগ্ধ-আবু সাঈদরা, সেই গণতন্ত্রকে শেষ করতে হাসিনার প্রেতাত্মারা এখনো সচিবালয়ে বসে আছে।’
দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য জীবনভর লড়াই করেছে বিএনপি। সেই গণতন্ত্রের লড়াইয়ে আমরা আমাদের মা, বাবা এবং ভাইকে হারিয়েছি। আয়নাঘরে দিন দিন নির্যাতনের শিকার হয়েছি। সেই আয়নাঘরের পরিবর্তে স্বচ্ছ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেভাবে কাজ করতে বলেছেন, আমাদের সবাইকে ঠিক সেইভাবে কাজ করতে হবে।’
সংবিধান সংশোধন করে সংসদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচন চালু করার দাবিতে আন্দোলনরত দলগুলোর উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘পিআর পদ্ধতি যদি আনতে হয়, তাহলে জনগণের কাছে যান, নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে ক্ষমতায় আসুন, এবং সংবিধান পরিবর্তন করে পিআর পদ্ধতি চালু করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন মানে ”আমার ভোট, আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব”। কিন্তু মৃত ব্যক্তির ভোটের মাধ্যমে সেই ভোটে জালিয়াতি করেছেন শেখ হাসিনা। এখন শেখ হাসিনা দিল্লীতে বসে আছেন, আর তার দোসররা বাংলাদেশে বসে চক্রান্ত করছে। এটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না।’


