সদ্য প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরকে দেশের স্বাধীন বিবেকের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় এই বুদ্ধিজীবী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো ভীতি বা হুমকি তাকে তার কর্তব্যকর্ম থেকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। স্বৈরতন্ত্রকে উপেক্ষা করে তিনি তার স্বাধীন মতামত প্রকাশে কখনোই কুন্ঠিত হননি। তিনি এদেশে ছিলেন স্বাধীন বিবেকের এক প্রতীক।’
এর আগে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৯৪ বছর বয়সী বদরুদ্দীন উমর।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বামপন্থী প্রগতিশীল রাজনীতির পথিকৃত, লেখক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমরের জীবনাবসানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও আমি গভীরভাবে মর্মাহত। স্বাধীনচেতা, নির্ভিক কন্ঠস্বরের এই বুদ্ধিজীবীর এই মুহূর্তে পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া জনমনে হতাশার সৃষ্টি করেছে। জনগণের সম্মান ও নিদারুণ বেদনাকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি এবং সেটিকে প্রতিবাদের ভাষায় মূর্ত করতে পারতেন তিনি।’
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের স্বাধীনতা এবং সব স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রয়াত বদরুদ্দীন উমরের চিন্তা ও লেখনিসহ সক্রিয় তৎপরতা অবিস্মরণীয় বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘জাতির নানা ক্রান্তিকালে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তনের পর্ব নিয়ে তার গবেষণাধর্মী গ্রন্থসমূহ এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে পাঠক সমাজের নিকট সমাদৃত। মরহুম বদরুদ্দীন উমর বারবার রাজরোষে পড়া সত্ত্বেও তিনি তার আদর্শ বাস্তবায়নে ছিলেন আপোষহীনভাবে স্থির।’
শোকবার্তায় বদরুদ্দীন উমরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবার-পরিজন, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারেক রহমান।
মির্জা ফখরুলের শোক
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে বেদনাহত জানিয়ে শোকবার্তা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের এবং শোষণ মুক্তি সংগ্রামের প্রেরণা ছিল তার (বদরুদ্দীন উমরের) লেখনি। ইতিহাসের পরিক্রমায় নানা উত্থান-পতনের ঘটনা নিয়ে তিনি রচনা করেছেন অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। আজীবন বাম প্রগতিশীল রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট মরহুম বদরুদ্দীন উমর সহজ, সরল, অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন নিজ আদর্শে অবিচল থেকে। কখনোই স্বৈরশাসকের ধমকে নীরব দর্শক হয়ে থাকেননি বরং তিনি তার কথা ও লেখনিতে অন্যায় ও অবিচারের স্বৈরতন্ত্রের মূলে প্রচণ্ড শক্তিতে কুঠারঘাত করেছেন।’
‘আমৃত্যু তিনি জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করেছেন ও কলম ধরেছেন। রাজনীতির দুর্নীতিকরণের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন এক জলন্ত প্রতিবাদ।’
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সামাজিক প্রেক্ষাপটে বদরুদ্দীন উমরের মতো নির্ভিক মুক্তচিন্তার বুদ্ধিজীবীর বেঁচে থাকা খুব জরুরি ছিল বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।
এনসিপির শোক
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শোকবার্তায় বলা হয়, ‘খুনি হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের বয়ান উৎপাদক ও সমর্থক মূলধারার বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের বিপরীতে বদরুদ্দীন উমর ছিলেন গণমানুষের পক্ষের চিন্তক ও রাজনৈতিক শক্তি। ২০২৪ সালের জানুয়ারির ডামি-নির্বাচনের পূর্বেই তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগকে তাড়ানোর কথা বলেছিলেন।’
‘জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার সময় এই গণআন্দোলনকে তিনি “গণঅভ্যুত্থান” হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন এবং পূর্বের অভ্যুত্থানসমূহের তুলনায় এটির ব্যাপকতা স্বীকার করেছিলেন। এছাড়াও, বাহাত্তরের মুজিববাদী সংবিধানকে তিনি ১৯৭২ সালেই “চিরস্থায়ী জরুরি অবস্থার সংবিধান” হিসাবে অভিহিত করেছিলেন।’
এনসিপির বার্তায় আরও বলা হয়, ‘একজন গবেষক ও লেখক হিসেবে তিনি তার লেখনিতে বস্তুনিষ্ঠ এবং নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস তুলে ধরতেন। বাংলাদেশের জনগণের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের মুজিববাদী পাঠের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। নতুন বাংলাদেশে একাত্তরের জনযুদ্ধের প্রকৃত ও গণমানুষের ইতিহাসের তালাশ এবং পুনঃপাঠে তিনি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হবেন।’
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে তার পরিবার ও সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এনসিপি।


