চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’-এর গবেষক পদ থেকে ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দায়িত্ব পালন না করেও বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে তার কাছে ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সম্প্রতি চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ নির্বাহী কমিটির সপ্তম সভার দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত এবং চবির ৫৬২তম সিন্ডিকেট সভার ৪৭ নম্বর সিদ্ধান্তের আলোকে মুনতাসীর মামুনের নিয়োগ ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ থেকে বাতিল করা হলো। ওই তারিখ থেকে পরবর্তী সময়ে পরিশোধিত সব অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বলেন, ‘সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কাজ না করেও যেসব সম্মানী গ্রহণ করেছেন সেগুলো ফেরত দিতে বলা হয়েছে। তার বক্তব্য, গবেষণার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করা এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বেতন নেওয়ার কারণে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তার জীবন ও আদর্শ নিয়ে গবেষণার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দুই বছরের জন্য মুনতাসীর মামুনকে এই চেয়ারের গবেষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালে তার মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়।
তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার বেতন-ভাতা স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে, গত বছরের নভেম্বরের ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ নির্বাহী কমিটির ষষ্ঠ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয় এবং ব্যাখ্যা চাইলে তা পরবর্তীতে গ্রহণযোগ্য হয় না বলে সিদ্ধান্ত হয়।
বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ
প্রশাসনিক নথি অনুযায়ী, নিয়োগের পর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৩ মাসে তিনি মোট প্রায় ৬০ লাখ টাকা বেতন-ভাতা নিয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাস ১৫ দিনের সম্মানী হিসেবে গ্রহণ করা ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গবেষণা কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’-এর গবেষককে প্রতিবছর অন্তত দুটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ এবং চারটি বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। তবে ২০২৩ সালের মার্চের পর থেকে মুনতাসীর মামুন কোনো গবেষণা প্রতিবেদন বা প্রবন্ধ জমা দেননি বলে প্রশাসনের অভিযোগ।


