বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে অধ্যায়টা চুকিয়ে ফেললেন কিউবা মিচেল। কারণটা সেই পুরনো, বকেয়া বেতন। তারিক কাজীর বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একই অভিযোগে কিংস ছাড়লেন এই তরুণ মিডফিল্ডার। কেবল চুক্তি বাতিলই করেননি, নতুন ঠিকানার খোঁজে ইতিমধ্যে ইংল্যান্ডেও পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। উইন্টার ট্রান্সফার উইন্ডোকে কাজে লাগাতেই তড়িঘড়ি করে ইংল্যান্ড ফিরেছেন কিউবা। এখন তার লক্ষ্য একটাই, নতুন কোনো ক্লাবে নাম লেখানো।
শনিবার সকালে ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে বিদায়ের কারণ খোলাসা করেছেন কিউবা। সেখানে পেশাদারিত্বের মোড়কে ঝরে পড়েছে চাপা ক্ষোভ। তিনি লিখেছেন, ‘বকেয়া বেতনের কারণেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সমস্যার সমাধান না হওয়া সত্ত্বেও খেলা চালিয়ে যাওয়াটা মানসিক ও শারীরিকভাবে আমার জন্য কঠিন ছিল।’ তবে অল্প সময়ের জন্য হলেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি আর সতীর্থদের ভালোবাসার কথা তিনি ভোলেননি। কিউবা যোগ করেন, ‘আমি পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছি, ব্যাজের প্রতি সম্মান রেখে খেলেছি। ফুটবলাররা মাঠে কেবল পারফর্মই করে না, তারা প্রতিশ্রুতি ও বিশ্বাসও দেয়। বিনিময়ে তাদের মৌলিক অধিকারটুকু তো সম্মান করা উচিত।’
কিউবার এই বিদায় বাংলাদেশের ফুটবলের এক রূঢ় বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনে দিল। কিছুদিন আগেই তারিক কাজী একই ইস্যুতে ক্লাব ছেড়েছিলেন। মোহামেডান থেকেও মোজাফফরভ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিদায় নিয়েছেন, যার নেপথ্যেও অসন্তোষের গুঞ্জন। দেখা যাচ্ছে, যাদের সামর্থ্য বা সুযোগ আছে, তারা এভাবেই প্রতিবাদ করে নিজেদের পথ দেখছেন।
বিদায়ী বার্তায় কিউবা বাংলাদেশের ফুটবলের কাঠামোগত পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ফুটবল আরও ভালো কিছুর যোগ্য। যারা প্রতিদিন এই খেলার জন্য ত্যাগ স্বীকার করে, তাদের জন্য স্বচ্ছতা ও ভালো কাঠামো দরকার।’ তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, যারা মুখ বুজে এই বঞ্চনা সহ্য করছেন, তারাও যেন কথা বলার সাহস পান।
বিদেশি ও প্রবাসী ফুটবলাররা যখন একে একে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তখন প্রশ্নটা এসেই যায়, বাফুফে বা ক্লাবগুলো কি এই দুর্দশা ঘোচাতে কোনো স্থায়ী সমাধানে আসবে? নাকি হামজা চৌধুরী বা শমিতদের আগমনের খবরে ‘ক্যাশ-ইন’ করতেই ব্যস্ত থাকবে দেশের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা? মাঠের ফুটবল যখন অস্তিত্ব সংকটে, তখন কিউবার এই নিঃশব্দ বিদায় লিগের পেশাদারিত্বের কফিনে আরও একটি পেরেক ঠুকে দিয়ে গেল।


