ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হাতে আটক গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীরা আমরণ অনশন শুরু করেছেন। শুক্রবার তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি টু ব্রেক দ্য সিজ অব গাজা’ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক হওয়ার মুহূর্ত থেকেই কর্মীরা অনশনে রয়েছেন। তাদের দাবি, গাজার ওপর দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।
এদিকে, ইসরায়েলি অবরোধ অমান্য করে গাজার উদ্দেশে নতুন করে ১১টি নৌযান রওনা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) জানায়, বহরে প্রায় একশ মানবাধিকারকর্মী ও যাত্রী রয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকে এফএফসি নিয়মিতভাবে গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠিয়ে আসছে।
এর আগে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৪৪টি জাহাজ আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। তাতে থাকা পাঁচ শতাধিক কর্মীও গ্রেপ্তার হন। শেষ পর্যন্ত গাজাগামী জাহাজ মারিনেটও ইসরায়েলের হাতে আটক হয়।
ইসরায়েল অতীতেও গাজাগামী নৌযান আটকে মালামাল বাজেয়াপ্ত করেছে এবং অধিকারকর্মীদের আটক করেছে। প্রায় দুই বছর ধরে বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে বাধা দিচ্ছে তারা। স্থানীয় সাংবাদিকরাও হত্যার শিকার হচ্ছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ২৭০ জনের বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ ও অবরোধে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। হাসপাতাল ও ক্লিনিক ধ্বংস হয়েছে, চিকিৎসক অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসক দলকেও প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
প্রায় ১৮ বছর ধরে ইসরায়েল গাজায় অবরোধ চালাচ্ছে। মার্চে সীমান্ত ক্রসিং বন্ধের পর খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, অনাহার ও রোগব্যাধিতে গাজা বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।


