ফের বিক্ষোভে উত্তাল মাদাগাস্কার, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি

ফের বিক্ষোভে উত্তাল মাদাগাস্কার, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি
সোমবার মাদাগাস্কারের আন্তানানারিভোতে ‘জেন জি’ (জেনারেশন জেড) নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে একজন বিক্ষোভকারী রাস্তা অবরোধ করতে জ্বলা টায়ার হাতে নিয়ে দৌড়াচ্ছেন। ছবি: রয়টার্স
Advertisement
Advertisement

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আফ্রিকার দেশ মাদাগাস্কার। এবার বিক্ষোভকারীরা সরাসরি দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনার পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।

সোমবার রাজধানী আনতানানারিভোসহ একাধিক শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। রাস্তায় নামেন শত শত তরুণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, পানির ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে গত মাসে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন সরকারবিরোধী বৃহৎ বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে। এই বিক্ষোভের পেছনে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে কেনিয়া ও নেপালের ‘জেন জি’ (জেনারেশন জেড) আন্দোলনগুলো, যেখানে তরুণেরা দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন।

খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অথচ চরম দারিদ্র্য ও ব্যাপক দুর্নীতিগ্রস্ত এই দেশটিতে আন্দোলনকারীরা সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা পরিস্থিতি শান্ত করতে সম্প্রতি তার মন্ত্রিসভা বরখাস্ত করলেও বিক্ষোভকারীরা তার পদত্যাগ দাবি করেছে।

আরও পড়ুন

এর আগে, জাতিসংঘ জানায়, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে অন্তত ২২ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। তবে সরকার এই সংখ্যা অস্বীকার করেছে।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত, কিন্তু পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।’

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, জনগণের ক্ষোভের পেছনে রয়েছে ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও সেবা সংকট। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।

রাজোয়েলিনা ২০০৯ সালে এক অভ্যুত্থানের পর প্রথম ক্ষমতায় আসেন। ২০১৮ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরেন এবং ২০২৩ সালে আবার নির্বাচিত হন। কিন্তু বিদ্যুৎ ও পানির সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং তরুণদের কর্মসংস্থানহীনতা তার জনপ্রিয়তাকে গভীর সংকটে ফেলেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর