ফেনীতে ফিলিং স্টেশনে স্বস্তি, আবাসিকে গ্যাস সংকট বহাল

ফেনীতে ফিলিং স্টেশনে স্বস্তি, আবাসিকে গ্যাস সংকট বহাল
ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকট কমেছে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

টানা তীব্র সংকটের পর ফেনীতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ গ্রাহক, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে।

গত শুক্রবার সকাল থেকে ফেনী অঞ্চলের গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্র ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। ফলে রাত থেকেই জেলার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিকভাবে গ্যাস নিতে পারছে যানবাহনগুলো।

​বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, গ্যাস সঞ্চালন কেন্দ্র (জিটিসিএল)-এর কার্যক্রম চালুর পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে জেলার ১৪টি স্টেশনের মধ্যে ১০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে একযোগে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

ফেনী এলাকায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ ২৩ থেকে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কয়েকদিনের মধ্যে সরবরাহ শতভাগে উন্নীত হবে এবং দূরবর্তী উপজেলাগুলোতেও গ্যাস সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে।

​সরেজমিন ফেনীর মহিপাল এলাকার ব্যস্ততম হাজী নজির আহম্মদ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ অপেক্ষা ছাড়াই গাড়িগুলো সহজে গ্যাস নিতে পারছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে অন্য দিনের মতো দীর্ঘ সারি বা উপচে পড়া ভিড় ছিল না।

ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. মাসুম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত আটটা থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর সারারাত গাড়িতে গ্যাস দেওয়া হয়েছে। গ্যাসের চাপও বেশ ভালো ছিল।

আরও পড়ুন

কথা হয় কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের সঙ্গে। মহিপাল এলাকার চালক আবদুল করিম বলেন, ‘গত কয়েক দিন পাম্পে পাম্পে ঘুরেও ঠিকমতো গ্যাস পাই নাই। লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ট্রিপ ধরতে পারিনি, দিনশেষে জমার টাকাই উঠত না। বৃহস্পতিবার রাত থেকে পাম্পে কোন ভিড় ছাড়াই সহজে গ্যাস পেয়েছি।’

অটোরিকশা চালক মো. হাছান জানান, ‘গ্যাসের প্রেসার কম থাকলে পাম্পের লোকেরা গাড়ি ঢুকাইতে দিত না। সিলিন্ডার ফুল হতো না বলে অল্প দূরে গিয়েই গ্যাস শেষ হয়ে যেতো। এখন গ্যাসের চাপ ভালো থাকায় একবার সিলিন্ডার ভরে সারাদিন ভালোভাবেই গাড়ি চালানো যাচ্ছে। খুব স্বস্তি পাইছি।’

দূরপাল্লার সিএনজি চালক আবুল কাশেম বলেন, ‘টানা কয়েকদিন খুব কষ্ট হয়েছে। মালিকের জমা আর নিজেদের রুটি-রুজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আশা করি, পাম্পগুলোতে গ্যাসের এমন চাপ নিয়মিত বজায় থাকবে, যাতে আর লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে না হয়।’

​এ বিষয়ে বিজিডিসিএল ফেনীর ডিজিএম প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই পুরোপুরি সমস্যা সমাধানের আশা করছেন তিনি।

এর আগে, টানা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ও তীব্র স্বল্পতার কারণে যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছিল।

অন্যদিকে, আবাসিকে গ্যাস সংকট এখনও কমেনি।  একদমই গ্যাস সরবরাহ নেই শহরের অধিকাংশ এলাকায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ৩২ হাজার গ্রাহক। অনেকের ঘরেই চুলা না জ্বলায় খাবারের জন্য ভীড় করেছেন হোটেল রেঁস্তোরায়। এদিকে শিল্প-কারখানায় গ্যাস না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। ৪৫০টির মত প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ থাকলেও কোথাও দেখা নেই গ্যাসের।

শহরের দাউদপুল এলাকার স্টার লাইন অটো মেজর ফ্লাওয়ার মিলের কর্মকর্তারা জানান, দিনের বেলায় এখনও গ্যাস থাকে না। রাতে কিছুটা আসে। তা দিয়েই উৎপাদন সারতে হয়। এতে তারা কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনে যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাইন উদ্দীন।

অপরদিকে শহরের পূর্ব উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফাহিমা আবেদীন বলেন, ‘গত কয়েক দিনতো একদম গ্যাস থাকতো না। চুলা জ্বলতোই না। এখন রাত তিনটায় আসে। সকাল হতেই আবার চলে যায়। চাপ একদমই কম।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad