ফেনীতে স্কুলছাত্র আহনাফ আল মাঈন নাশিত (১০) অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তিন যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে একেকজনকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ এ এন এম মোর্শেদ খান বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আশরাফ হোসেন তুষার (২০), মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২০) ও ওমর ফারুক রিপাত (২০)।
রায় ঘোষণার আগে বেলা ১১টায় তাদের কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এ সময় এজলাসে নেওয়ার পথে আসামিদের আচরণ ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং শেষ করে স্থানীয় বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় নাশিত। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত তুষার ও তার সহযোগীরা কৌশলে তাকে অপহরণ করে শহরতলির দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়।
সেখানে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে শিশুটিকে অচেতন করা হয়। পরে নাশিতের ছবি তুলে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
মামলার নথি অনুযায়ী, মুক্তিপণ আদায়ের আগেই অপহরণকারীরা নাশিতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ রেললাইনের পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সেজন্য স্কুলব্যাগে পাথর ভরে চাপা দেওয়া হয়।
নাশিত নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ৯ ডিসেম্বর তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তী সময়ে একটি নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হলে পুলিশ তদন্ত জোরদার করে।
সন্দেহের ভিত্তিতে তুষারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের স্কুলব্যাগসহ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর আদালত সাজা পরোয়ানা জারি করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রায়ে নিহতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই রায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


