জুলাই ডায়েরি: ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

জুলাই ডায়েরি: ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা
৩১ জুলাই ২০২৪, বুধবার ঢাকার হাইকোর্ট এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: তথ্য মন্ত্রণালয়
Advertisement
Advertisement

২০২৩ সালের ৩১ জুলাই, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়, ফলে শতাধিক বিক্ষোভকারী আটক হন এবং অন্তত ৯০ জন আহত হন।

কর্মসূচির আহ্বায়ক আব্দুল কাদের আন্দোলনকারীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের মুক্তি, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং হত্যার বিচার দাবি করেন। তিনি মঙ্গলবার রাতে টেলিগ্রাম অ্যাপে কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ৩১ জুলাই, বুধবার দুপুরে হাইকোর্টের মাজার গেট এলাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জমায়েত হন। সেখান থেকে কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে, কিন্তু প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তারা স্লোগান দিয়ে অবস্থান নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমানসহ অনেক শিক্ষক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনকারীরা পরে দোয়েল চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করেন এবং সেখান থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও বিক্ষোভ মিছিল ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য কর্মসূচি পালন করে। সিলেটেও পুলিশ বাধা দিয়েছিল, কিন্তু শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পুলিশের হামলার শিকার হন, এতে ২০ জনেরও বেশি আহত হন।

এদিকে, ৩১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নতুন কর্মসূচি ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ভয়াবহ স্মৃতিচারণ, শহীদদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন, গ্রাফিতি এবং ডিজিটাল পোর্ট্রেট তৈরি করা হয়।

বাংলাদেশে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, বিশেষ করে কোটা আন্দোলন ও সহিংসতার কারণে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও বাংলাদেশের পরিস্থিতির কারণে অংশীদারিত্ব আলোচনা স্থগিত করেছে। অপরদিকে, রাষ্ট্রীয় চাপের মধ্যেও আন্দোলনকারীরা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। ৩১ জুলাই, ঢাকার সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীরা দুই পক্ষ হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন, একদিকে সরকার পক্ষ, অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের অবস্থান।

১৫ দিনের আন্দোলনে ১০ হাজার ৭৩৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। ৩১ জুলাই বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইসসহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা জানতে চান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad