খাগড়াছড়ির অবরোধকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতময় পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি উভয় পক্ষকে ‘সংযম দেখানোর’ আহ্বান জানিয়েছে। পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা এ সংগঠনের সভাপতি।
জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ‘১৪৪ ধারার ভেতরেই’ ওই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি’ রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালা এলাকার অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া এক জুম্ম (পাহাড়ি) কিশোরীকে গণ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ধর্ষকদের গ্রেফতারপূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে ‘জুম্ম ছাত্র জনতার’ সমাবেশ থেকে শনিবার ডাকা হয় সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ কর্মসূচি। পূর্বনির্ধারিত অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পিকেটারদের সাথে একদল বাঙালির পাল্টাপাল্টি হামলা হয়।’
‘এ ঘটনাটি এক পর্যায়ে খাগড়াছড়ি পৌর শহরে ছড়িয়ে পড়লে জুম্ম ও বাঙালিদের মধ্যকার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনা এক পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে উত্তেজিত বাঙালিরা মহাজনপাড়া ও খেজুরবাগানে জুম্মদের দোকানপাট ভাংচুর করার চেষ্টা চালায় এবং উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত হয়।’
‘পরে পরিস্থিতি অবনতির লক্ষণ দেখা দিলে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। এর পরপর পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মাঠে নেমে উত্তেজিত পাহাড়ি ও বাঙালিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য শান্ত হলেও সন্ধ্যা ৭ টায় আবারও য়ংড বৌদ্ধ বিহারের পাশে জুম্ম ও বাঙালিদের মধ্যকার ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং এক পর্যায়ে বাঙালিদের ধারালো দা’য়ের কোপে দুই জুম্ম যুবক গুরুতর জখম হয়। তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

বিবৃতিতে বলা হয়, “পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষকদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় বারবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে এবং অপরাধীরা ঘটনা ঘটিয়ে নিরাপদে পার পেয়ে যাচ্ছে।” সেজন্য পাহাড়ে এ পর্যন্ত যতগুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সে সব ঘটনায় অভিযুক্তসহ সম্প্রতি সিঙ্গিনালায় ঘটনায় জড়িত ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনসংহতি সমিতি জোর দাবি জানাচ্ছে।’
বিবৃতিতে ‘একই সাথে সহিংস সাম্প্রদায়িক ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য প্রশাসনের যথাযথ সুদৃষ্টি কামনা এবং শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে জুম্ম-বাঙালিদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।


