ফিলিপাইনে অন্তত ১৮৮ জনের প্রাণহানি ঘটানোর পর বছরের অন্যতম শক্তিশালী টাইফুন কালমায়েগি এবার আঘাত হেনেছে ভিয়েতনামে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ঝড়টি বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মধ্য ভিয়েতনামে আঘাত হানে। বাতাসের তীব্রতায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন বহু মানুষ।
ধীরে ধীরে এটি স্থলভাগের ভেতরের দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে বৃষ্টির তীব্রতা।
সবশেষ মধ্য ভিয়েতনামের প্রদেশ থেইন হোয়া থেকে কুয়াং ত্রি পর্যন্ত ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
ভিয়েতনাম আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ভিয়েতনাম নিউজ এজেন্সি ডাক লাক প্রদেশে একটি বাড়ি ধসে একজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে উড়ে যাওয়া ছাদ, প্লাবিত ঘরবাড়ি এবং গাছ ও আবর্জনায় ভরা রাস্তা দেখা গেছে।
দেশটির সরকার জানিয়েছে, তারা অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য ২ লাখ ৬৮ হাজারেরও বেশি সৈন্য মোতায়েন করেছে। সেইসঙ্গে নিচু এলাকাগুলোয় সম্ভাব্য বন্যার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
এই টাইফুন ভিয়েতনামের প্রধান কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসের কৃষিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে ফিলিপাইনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো ১৩৫ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৯৬ জন।
টাইফুন কালমায়েগি (স্থানীয় নাম তিনো) এ বছর ফিলিপাইনে আঘাত হানা ২০তম ঘূর্ণিঝড়। এক মাস আগেই, সুপার টাইফুন রাগাসা (নান্দো) এবং টাইফুন বুয়ালয়ের (ওপং) আঘাতে ১২ জনের বেশি প্রাণ হারান।
কালমায়েগি এ বছর দক্ষিণ চীন সাগরে গঠিত ১৩তম টাইফুন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় টাইফুন বলয়ের ওপর অবস্থানের কারণে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন ক্রান্তীয় ঝড় ও টাইফুনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঝড়ের মৌসুমে তারা নিয়মিতই ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের শিকার হয়।


