ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় কালমায়েগির আঘাতে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির সিভিল ডিফেন্স অফিসের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে শত শত ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড়টি ফিলিপাইনের উপকূলে আঘাত হানলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। পানি বাড়তে থাকায় বহু মানুষ বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেয় এবং অনেক গাড়ি পানির স্রোতে ভেসে যায়।

ঝড়টি ভিসায়াস দ্বীপপুঞ্জ পেরিয়ে লুজন ও মিন্ডানাও এলাকাতেও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
সিভিল ডিফেন্সের উপপ্রশাসক রাফায়েলিতো আলেহান্দ্রো বলেন, ‘আমরা যে তথ্য পেয়েছি তাতে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ মৃত্যু ঘটেছে ডুবে যাওয়ার কারণে।’
নিহত ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনই সেবু প্রদেশের বাসিন্দা। সেখানে একাধিক শহর পানিতে তলিয়ে গেছে।

সেবুর তালিসায় সিটির ভিডিওতে দেখা গেছে, পুরো এলাকাই পানিতে তলিয়ে গেছে; শুধু ঘরের ছাদ দৃশ্যমান। একই দৃশ্য দেখা গেছে সেবু সিটি ও আশপাশের এলাকাতেও, যেখানে রাস্তাঘাট ও যানবাহন নিমজ্জিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে মানুষ সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করছে।
সেবুর তাবুয়েলান শহরের প্রধান সড়ক ভূমিধসে বন্ধ হয়ে গেছে। বোহোল দ্বীপে গাছ পড়ে একজন মারা গেছেন এবং লেতে দ্বীপে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধের।

আবহাওয়া বিভাগ পাগাসা জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ কালমায়েগির বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার, আর দমকা হাওয়া ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। এতে গাছ উপড়ে গেছে, বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে পড়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি ভূমি অতিক্রমের সময় কিছুটা দুর্বল হলেও এর তীব্রতা বজায় থাকবে। ইতোমধ্যে ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সমুদ্রগামী নৌযানগুলোকে নিরাপদ বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে উত্তর মিন্ডানাও অঞ্চলে ত্রাণ সহায়তায় পাঠানো এক সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
পাগাসা সতর্ক করেছে, উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ৩ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে, যা জীবনহানিকর হতে পারে।

সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। প্রতি বছর ফিলিপাইনে গড়ে ২০টি ট্রপিক্যাল ঝড় আঘাত হানে। গত সেপ্টেম্বরে সুপার টাইফুন রাগাসা দেশটির উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানে, যাতে অন্তত ১০ জন নিহত হন।
আবহাওয়াবিদ চারমেইন ভারিলা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আরও তিন থেকে পাঁচটি ঝড় আঘাত হানতে পারে।


