ফুটবল পায়ে প্রতিনিয়ত ইতিহাসকে ওলটপালট করা কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এক উপলক্ষ।
বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায় ইরাকের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে ফরাসি জার্সি গায়ে শততম ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।
তবে ফিলাডেলফিয়ার এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুধু এমবাপ্পের সেঞ্চুরিতেই সীমাবদ্ধ নেই, সূচির নাটকীয়তায় এটি রূপ নিয়েছে লিওনেল মেসির সঙ্গে দূরপাল্লার এক রাজকীয় লড়াইয়ে।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে যখন বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৪ তে নিয়ে যান, তখন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডটি তার হাতের নাগালেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দৃশ্যপট বদলে দেন মেসি।
আর এদিন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জালের দেখা পেয়ে ক্লোসাকে টপকে এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার (১৭ গোল) সিংহাসনে বসেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ফলে ফরাসি তারকার সামনে আজকের সমীকরণটি বেশ কঠিন। মেসির এই রেকর্ড ছুঁতে হলেও ইরাকের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করতে হবে ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে, আর ইতিহাস নিজের নামে একচ্ছত্র করতে প্রয়োজন অন্তত চার গোল। ক্রীড়ামোদীদের চোখ তাই এখন মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এই দুই মহাতারকার গোলসংখ্যার ব্যবধানের দিকে।
ব্যক্তিগত রেকর্ড বা শততম ম্যাচের উৎসব একপাশে সরিয়ে রেখে ফ্রান্স কিন্তু প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। ফরাসি ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইরাক দলটিকে যতটা সহজ ভাবা হচ্ছে, মাঠে তারা ততটাই কঠিন। আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে হারিয়ে এবং প্রস্তুতি ম্যাচে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে তারা বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে। তাই কোনো রকম আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ দিদিয়ের দেশমের দল।
ফরাসি রক্ষণভাগের আরেক তারকা লুকাস দিনিয়ে মনে করেন, টিকে থাকার লড়াইয়ে ইরাক সর্বোচ্চ শারীরিক শক্তি খাটিয়ে খেলবে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচের পাশাপাশি ফরাসি শিবিরকে ভাবাচ্ছে ফিলাডেলফিয়ার মাঠের মানও।
প্রথম ম্যাচের শক্ত ও খসখসে পিচ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা ফরাসিরা আশা করছে, আজকের ভেন্যুর ঘাস অন্তত ফুটবল খেলার উপযোগী থাকবে। সব বাধা পেরিয়ে আজ রাতে এমবাপ্পে নতুন ইতিহাস লিখবেন, নাকি মেসির রেকর্ড আরও অধরা থেকে যাবে–সেটা এখন দেখার বিষয়।


