অবৈধ চীনা নাগরিকদের ফেরত না নিলে দেশটির ওপর ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে চীন গড়িমসি করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বরাতে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বেইজিং যদি দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে ওয়াশিংটন আরও কঠোর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
এমন এক সময়ে এই হুঁশিয়ারি এলো যখন সপ্তাহখানেক পরেই চীনে ঐতিহাসিক সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
আগামী ১৪ ও ১৫ মে তার এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ‘অভিবাসন’ সংক্রান্ত ইস্যু নিয়েও আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফিরেই বিভিন্ন দেশকে অবৈধ অভিবাসী ফিরিয়ে নিতে চাপ দিতে শুরু করেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রকে অবৈধ অভিবাসী মুক্ত করা তার নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল। কঠোর এই অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে নির্বাসিত নাগরিকদের ফিরিয়ে না নিলে সেসব দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দেন তিনি।
অবশ্য চীন দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ সত্ত্বেও অবৈধভাবে থাকা হাজার হাজার নাগরিককে ফিরিয়ে নিতে অনীহা দেখিয়ে আসছে। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর বেইজিং জানিয়েছিল, কেবল যাচাইয়ের পর ‘নিশ্চিত চীনা নাগরিকদের’ ফেরত নিতে তারা প্রস্তুত, তবে এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে।
২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রায় তিন হাজার নির্বাসিত চীনা নাগরিককে ফিরিয়ে নেওয়ার পর গত ছয় মাসে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়ে সহযোগিতা কমিয়ে দিয়েছে বলে জানান ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা।
তিনি অভিযোগ করেন, চীন নিজেদের নাগরিকদের ফেরত নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে অস্বীকার করছে, যা তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার লঙ্ঘন এবং নিজেদের জনগণের প্রতি দায়িত্বহীনতা।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চীন সহযোগিতা না বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা আবেদনের সঙ্গে বেশি অর্থ জমা রাখার শর্ত আরোপ, আরও বেশি ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং সীমান্তে প্রবেশে কড়াকড়ি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ‘চীনা সরকারের নিষ্ক্রিয়তা আইন মেনে চলা চীনা নাগরিকদের ভবিষ্যৎ ভ্রমণকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।’
এদিকে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে আগে বেইজিং বলেছিল, তারা অবৈধ অভিবাসনের বিরোধী এবং এটি এমন একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা- যা সমাধানে সব দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখের বেশি অবৈধ চীনা নাগরিক অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ রয়েছে। এদের মধ্যে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করে নির্বাসনের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, এই শ্রেণির অধিকাংশই বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
স্বতন্ত্র হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট জানায়, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় দুই লাখ ৩৯ হাজার চীনা অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অনুমতি ছাড়া অবস্থান করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীন যেন তাদের সঙ্গে ভ্রমণ নথি সরবরাহ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে নির্বাসিতদের বহনকারী চার্টার ফ্লাইটকে তাদের দেশে অবতরণের অনুমতি দেয়।
অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২৪৩(ডি) ধারার আওতায়, যে দেশগুলো নির্বাসন অনুরোধে সহযোগিতা করে না তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর নিয়মিতভাবে চীনকে এমন ‘অসহযোগী’ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করেন, চীন ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাসিতদের জন্য নতুন ভ্রমণ নথি দিতে বিলম্ব করে, কারণ তারা তাদের ফিরিয়ে নিতে চায় না বা এই বিষয়টিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।


