আগামী ৫ জুন ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইউরোপের মাঠে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ফুটবল অভিষেক হতে যাচ্ছে, তবে প্রতিপক্ষ র্যাঙ্কিংয়ের ‘লাস্ট বয়। ফিফা টায়ার-১ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইউরোপের দেশ সান মারিনো। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সান মারিনোর ঘরের মাঠে। বাফুফে এই আয়োজনকে বড় সাফল্য হিসেবে প্রচার করলেও দেশের ফুটবল মহলে প্রশ্ন উঠেছে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও র্যাঙ্কিং নিয়ে।
বাফুফে এই ম্যাচটিকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এই সফর খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ বলছে ভিন্ন কথা। বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১, আর সান মারিনো রয়েছে একদম তলানিতে, ২১১ নম্বর স্থানে। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কম র্যাঙ্কিংধারী এই দলের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে হংকং কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ ফুটবল এগিয়ে নিতে হলে নিয়মিত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের প্রয়োজন, সেখানে র্যাঙ্কিংয়ের শেষ দলের সাথে খেলা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
যদিও সান মারিনোকে ইউরোপের দুর্বলতম দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে তাদের লড়াই করার মানসিকতাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ইউরোপীয় ঘরানার ফুটবলে নিয়মিত খেলার কারণে তারা শারীরিক ও ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সর্বশেষ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তারা অস্ট্রিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং রোমানিয়ার মতো শক্তিশালী দলগুলোর মুখোমুখি হয়েছে। সেই গ্রুপে তারা ৩৯ গোল হজম করলেও প্রতিপক্ষের জালে দুবার বল পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল। বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলার এই অভিজ্ঞতা মাঠে বাংলাদেশকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।
দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনই এই ম্যাচ নিয়ে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। সান মারিনোর জন্য এটিও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ তারা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো এশিয়ান দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে। বাফুফে মনে করছে, এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নেওয়ার একটি মোক্ষম সুযোগ এই ম্যাচ। তবে মাঠের লড়াইয়ে র্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য ঘুচিয়ে বাংলাদেশ কতটা দাপট দেখাতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


