সেনাবাহিনীকে কলঙ্কমুক্ত করতে হলে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাদেরকে অতিসত্বর গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর তরুণ অফিসার ও সৈনিকরা জনগণের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।’
নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘নতুন দেশ গঠন, সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী এখনো নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে। কিন্তু এ পথচলায় সংস্কার ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার বাইরে নয়।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সেনাবাহিনীসহ রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল সেনাবাহিনীতেও। কিছু কর্মকর্তা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) দায়িত্বে থেকে গুম, খুন ও ক্রসফায়ারসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র জনগণের ওপর গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে।’
নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘এ ভয়াবহ বাস্তবতার পেছনে রয়েছে গণতন্ত্রের দীর্ঘ ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দলীয়করণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি। গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের সামনে এসেছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলঙ্কমুক্ত করার ঐতিহাসিক সুযোগ। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে কলঙ্কমুক্ত করতে হলে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতেই হবে। আমরা আশা করি সেনা নেতৃত্ব সরকার ও ট্রাইব্যুনালকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ইগো বা মর্যাদার প্রশ্ন নয়, বরং রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।’
নাহিদ ইসলাম ফেসবুক পোস্টে আরও লেখেন, ‘আমরা চাই না সেনাবাহিনী ও বিচারব্যবস্থা মুখোমুখি অবস্থানে থাকুক। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী চায় সংঘাত হোক, যাতে দেশ অস্থিতিশীল হয়। আমরা রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ যেমন চাই না, তেমনি কোনো প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবও চাই না।’
এনসিপিরি এই আহ্বায়ক জানান, দেশপ্রেম, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হওয়াই উচিত।
তিনি লেখেন, ‘৫ আগস্ট থেকে আমরা দেশের স্থিতিশীলতা ও ঐক্য রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। স্থিতিশীলতা বজায় রেখেই আমরা সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের পথে এগোচ্ছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ন্যায়বিচার অর্জন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম।’


