ঢাকার পূর্বাচলে রাজউকের প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশও দিয়েছে আদালত।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
এদিন সকাল ১১ টা ২৯ মিনিট বিচারক এজলাসে আসেন। এই মামলার রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, আসামীদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদের উদ্দেশ্যে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তারা আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু করা হয়েছে। শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও টিউলিপ পৃথিবীর যেখানেই থাকুক তাদের বিচারে বাধা নেই।’
বিচারক আরও বলেন, ‘টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পূর্বাচলে মা, ভাই ও বোনের প্লট বরাদ্দে তিনি তার ‘বিশেষ ক্ষমতা’ ব্যবহার করে খালা শেখ হাসিনার ওপর চাপ প্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রাখেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে চাপ প্রয়োগ করেন। টিউলিপের অনেক বিশ্বস্তরা শেখ হাসিনাকে চাপ দিতে প্রভাব রাখে।’
মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ‘মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেছেন পাপ ও জুলুমের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহায়তা কোরো না। দুর্নীতি বর্তমানে রোগে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি সমগ্র সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। আমাদের সমাজের দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও গরিব দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নং রাস্তার ৬টি প্লট শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ দেন।
এ মামলায় প্লট গ্রহীতা হিসেবে প্রধান আসামি করা হয়েছে শেখ রেহানাকে, দুই নম্বর আসামি টিউলিপ ও শেখ হাসিনা তিন নম্বর আসামি।
হ্যাম্পস্টেড এবং হাইগেট এলাকার লেবার পার্টির সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক। ২০২৪ সালে লেবার পার্টি যুক্তরাজ্যে সরকার গঠন করলে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘সিটি মিনিস্টার’-এর দায়িত্ব পান টিউলিপ সিদ্দিক। এর আগে তিনবার যুক্তরাজ্যের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
গণআন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে তার খালা শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গত ১৪ জানুয়ারি ওই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তখন তার বিরুদ্ধে খালা শেখ হাসিনার সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের বিষয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছিল। যদিও এরপর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীন পরামর্শক স্যার লরি ম্যাগনাস টিউলিপের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত দেন যে তিনি কোনো অনিয়ম করেননি।


