ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
শনিবার ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আশা করছি, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আমরা মোটামুটি সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। জাতিকে সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছি তা বাস্তবায়ন করব।’
মক ভোটের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আজকের এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো একটি আদর্শ পোলিং সেন্টারের পরিবেশ কেমন হবে তা বাস্তবে দেখা। ভোটার কিউ, পোলিং অফিসারদের কার্যক্রম, প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে সবই আমরা প্র্যাকটিক্যাল ডেমনস্ট্রেশনের মাধ্যমে যাচাই করছি।’
সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয় জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘এবার অতিরিক্ত গণভোট পরিচালনা করতে হবে। তাই আজকের রিয়েল টাইম এসেসমেন্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৪২ হাজার ৫০০ পোলিং সেন্টার যথেষ্ট নাকি বুথ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে?’
তিনি আরও বলেন, ‘বুথ বাড়ানো মানে অতিরিক্ত জনবল, বাক্স, লজিস্টিকসহ নানা ব্যয় যুক্ত হবে। তবে কমিশন খরচ নয়, প্রয়োজনকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে। মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না। সময় যদি বেশি লাগে, আমরা বুথ বা কেন্দ্র বাড়াব।’
সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা কখনো পারফেক্ট ছিল না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো থাকবেই। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি অনেক উন্নতি করেছে। আমরা পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত।
সিইসি বলেন, ‘আগে আমরা নিজেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এখন পরিস্থিতি অনেক ইমপ্রুভ করেছে।’
গণভোট প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—আইন অনুযায়ী প্রশ্নগুলো একসঙ্গে বান্ডেল করা। এক-দুটো প্রশ্নে হ্যাঁ, বাকি প্রশ্নে না—এ রকম পৃথক অপশন নেই। এটা রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত।


