সংখ্যালঘু বা গুরু নয়, সবার পরিচয় হওয়া উচিত বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

সংখ্যালঘু বা গুরু নয়, সবার পরিচয় হওয়া উচিত বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
বিশিষ্টজনদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: পিএমও
Advertisement
Advertisement

দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় হওয়া উচিত- আমরা বাংলাদেশি।’

বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মের অনুসারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলনই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। বর্তমান “গ্লোবাল ভিলেজে” সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু পরিচয় মুখ্য বিষয় নয়। সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে হবে।’

রাষ্ট্র ও সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ-বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখার রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর গুরুত্ব রয়েছে বলেও জানান তিনি।

জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল।’ মথুরার অত্যাচারী শাসক কংসের পতনের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের সংযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন’ ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারও প্রাণের বিনিময়ে ‘কংসরূপী’ ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।

‘ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এখন দেশ পুনর্গঠনের পালা’, যোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে সময়ে সময়ে কিছু “কংস চরিত্রের” মানুষ রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ-বিরোধ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।’

‘সমাজবিরোধী অপশক্তি যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং কেউ যাতে বিরাজমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা সব নাগরিকের দায়িত্ব’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশে গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানি নিয়ে সতর্ক করে তারেক রহমান বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ যাতে সামাজিক অস্থিরতার কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি জানান, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। এ লক্ষ্যেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

‘সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। একই সঙ্গে নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবে’, উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

‘রাষ্ট্র-সরকার এবং নাগরিকদের’ মধ্যে পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা ও আলাপের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত ‘কল্যাণরাষ্ট্র’ গড়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কেউ যাতে রাষ্ট্র ও সমাজে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই দেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার-আমার-আমাদের সকলের অধিকার সমান।’ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার হলেও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’

আসন্ন দুর্গাপূজার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান এবং জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছার পাশাপাশি দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জানান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর