আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট পালপাড়ায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। এলাকার প্রায় ১২টি বাড়ির আঙিনা, উঠান ও বারান্দায় তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। সব মিলিয়ে এসব বাড়িতে ২০০ থেকে ২৩০টি প্রতিমা তৈরি হচ্ছে, যেখানে যুক্ত আছেন শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক।
কারিগর গৌতম পাল জানান, এবার তার বাড়িতে প্রায় ৫০টি প্রতিমা তৈরি হচ্ছে, যার প্রতিটির বিক্রি দাম ১৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে কারিগর দিলীপ পাল জানান, তার বাড়িতে তৈরি প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে ২০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায়। তিনি আরও জানান, সেখানে কর্মরত পুরুষ শ্রমিকেরা দৈনিক ১ হাজার ২০০ টাকা এবং নারী শ্রমিকেরা ৬০০ টাকা মজুরি পান।
কারিগরদের মতে, গত বছরের তুলনায় বাঁশ, কাঠ, খড় ও সুতাসহ প্রায় প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে। গত বছর ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বাঁশ এবার ৫০০ টাকা, ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকার কাঠ ৫০০ থেকে ৬০ শত টাকা এবং ১৫০ থেকে ২০০ টাকার সুতা ২৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে মাটি, পাটের আঁশ, রং ও পরিবহন খরচ বাড়লেও প্রতিমার দাম এবং কারিগরদের পারিশ্রমিক না বাড়ায় লাভ কমে যাচ্ছে।
নারী কারিগর মিনা পাল জানান, খড় বাঁধা, মাটি প্রস্তুত, প্রতিমা শুকানো ও রঙের কাজে পুরুষদের পাশাপাশি পরিবারের নারী ও শিশুরাও সহযোগিতা করছেন।
আয়োজকদের চাহিদা অনুযায়ী ঐতিহ্যবাহী রূপের পাশাপাশি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা আধুনিক নকশার প্রতিমাও তৈরি করতে হচ্ছে কারিগরদের। ঈশ্বরদী, পাবনা, বগুড়া, নাটোর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতারা এই পালপাড়ার প্রতিমার অর্ডার দিচ্ছেন।
পাবনার ভাঙ্গুড়ার করতকান্দি এলাকার ক্রেতা মিন্টু সরকার, রাহুল সরকার ও নান্টু সরকার জানান, কাজের ফিনিশিং ও শৈল্পিক সৌন্দর্যের কারণে প্রতিবছরই তারা এখান থেকে প্রতিমা কেনেন।
সন্তোষ কুমার কানু জানান, এ বছর সিরাজগঞ্জ জেলায় ৫ শতাধিক মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে, যার মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছে আনুমানিক ৪২টি।
ইন্দ্রজিৎ সাহা জানান, নির্ধারিত তিথি অনুযায়ী মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে তা শেষ হবে।
২০২৬ সালের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাপঞ্চমী, ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।


