টাইমসে সংবাদ প্রকাশ/ সিলেটে বালু-পাথর লুট বন্ধে অভিযান, ১২ নৌকা জব্দ

গত মঙ্গলবার ‘নিষেধাজ্ঞা শুধু কাগজে, সিলেটে প্রকাশ্যে পাথর-বালু লুট’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সিলেটে বালু-পাথর লুট বন্ধে অভিযান, ১২ নৌকা জব্দ
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সিলেটের কোয়ারিগুলোতে নিষেধাজ্ঞাকে পরোয়া না করে প্রকাশ্যে পাথর ও বালু লুট নিয়ে ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এ সংবাদ প্রকাশের পর অভিযানে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বুধবার জৈন্তাপুর উপজেলার ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের রাংপানি নদীতে বিজিবি ও পুলিশের সহযোগিতায় এক যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে রাংপানি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ১২টি বারকি নৌকা জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার ‘নিষেধাজ্ঞা শুধু কাগজে, সিলেটে প্রকাশ্যে পাথর-বালু লুট’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর প্রশাসন তৎক্ষণাৎ নড়েচড়ে বসে এবং বুধবার সকাল থেকে জৈন্তাপুরের বিভিন্ন কোয়ারিতে একযোগে অভিযান শুরু করে।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরুল হকের নেতৃত্বে ৪ নম্বর বাংলাবাজার ইউনিয়ন থেকে রাংপানি নদী এলাকা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘অভিযানকালে ১২টি বারকি নৌকা ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং আরও পাঁচটি নৌকা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু ও পাথর লুটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আগে সটকে পড়ে।’ অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধে আগামীতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে ২০১৫ সালে সিলেটের অন্যতম প্রধান পাথর কোয়ারি জাফলংকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। তার আগে ২০১৪ সালে উচ্চ আদালত সিলেটের আটটি কোয়ারিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে সরকার সব কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে।

তবে মাঠপর্যায়ে সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি ও জাফলং, কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর ও শাহ আরেফিন টিলা, কানাইঘাটের লোভাছড়া এবং জৈন্তাপুরের সারি-৩, বাইরাখেল, বাওনহাওর, শ্রীপুর ও রাংপানি এলাকায় নদী ও তীর কেটে অসাধু চক্র নিয়মিত বালু-পাথর লুট করছিল।

কয়েকটি স্থানে বালুমহাল ইজারা থাকলেও সেই অজুহাতে ইজারাবহির্ভূত সংরক্ষিত এলাকাতেও চলে আসছিল অবাধ লুণ্ঠন। এতে সিলেটের স্থানীয় নদী, মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, কবরস্থান, শ্মশান এবং নদী রক্ষা বাঁধ গুরুতর ভাঙন ও ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়ে। প্রশাসনের সাম্প্রতিক এই কঠোর পদক্ষেপে স্থানীয়দের মনে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর