কুমিল্লায় ধানকাটা শ্রমিক সেজে হত্যা-লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

কুমিল্লায় ধানকাটা শ্রমিক সেজে হত্যা-লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
গ্রেপ্তার আসামি। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

কুমিল্লার চান্দিনায় ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে ছমিরন খাতুন (৬০) নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। ঘটনায় আরও একজন পলাতক রয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঢাকার কদমতলী এলাকার শরীফুল ইসলাম শান্ত (২৭), কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিরহাট যশপুর কাজী বাড়ির মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিন (৩১) এবং লাকসাম উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকার আরাফাত হোসেন (১৪)। তাদের মধ্যে মাসুম বিল্লাকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পিবিআই।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় পিবিআই কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান।

পিবিআই জানায়, গত ৩ মে সকালে চান্দিনা উপজেলার অলিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ছমিরন খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শয়নকক্ষের দরজা খোলা, কাঠের আলমারি খোলা এবং কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় ছিল। পরে জানা যায়, বাড়িতে ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে থাকা কয়েকজন শ্রমিক টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছেন।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেপ্তার তিনজন আগে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারি ঘাটে একসঙ্গে কাজ করতেন। পরে তারা ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে কুমিল্লায় এসে ছমিরন খাতুনের বাড়িতে অবস্থান নেন।

সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন ধান কাটার কাজ ঠিকমতো না জানা এবং ধান নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে ছমিরন খাতুন ও তার স্বামীর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে তারা গৃহকর্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ও তা বাস্তবায়ন করেন।

আরও পড়ুন

রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ছমিরন খাতুনের ঘরে ঢুকে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান আসামিরা। লুট হওয়া নগদ টাকার পরিমাণ ৭০ হাজার এবং স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পিবিআই।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. বশির আহাম্মদ বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। প্রথমে চান্দিনা থানা-পুলিশ সাত দিন তদন্ত করে। পরে ১০ মে মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই কুমিল্লা জেলা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই কুমিল্লার উপপরিদর্শক (নিঃ) মো. আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ থেকে ১৫ মে চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরীফুল ইসলাম শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ বছর বয়সী আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুম বিল্লা ওরফে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তদন্তের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর