কুষ্টিয়ায় কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ
Advertisement
Advertisement

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে তার দরবার প্রাঙ্গণে নতুন করে দাফন করার অভিযোগ উঠেছে তার ভক্তদের বিরুদ্ধে।

স্বজনদের অভিযোগ, শুক্রবার রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার স্থানীয় একটি কবরস্থান থেকে শামীমের মরদেহ তুলে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত স্থানে নতুন করে দাফন করা হয়।

নিহত শামীম পীরের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে তারা কবরস্থানে গিয়ে দেখেন, কবরটি খোঁড়া হয়েছে। মরদেহ তুলে নেওয়ার আলামতও পাওয়া গেছে। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে একটি নতুন কবর খোঁড়া এবং বাঁশের খাপাচি দিয়ে মাটি চাপা অবস্থায় দেখতে পান তারা।

খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান।

নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে তারা কবরস্থানে গিয়ে দেখেন, কবরটি খোঁড়া হয়েছে। মরদেহ তুলে নেওয়ার আলামতও পাওয়া গেছে। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে একটি নতুন কবর খোঁড়া এবং খাপাচি দিয়ে মাটি চাপা অবস্থায় দেখতে পান তারা।

আরও পড়ুন

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। নতুন কবরের ভেতরে কঙ্কালসদৃশ বস্তু দেখা যাচ্ছে। তবে সেটি শামীমের মরদেহের অংশ কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় একটি কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
শামীম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে, মরদেহ কবরস্থান থেকে তুলে দরবার প্রাঙ্গণে দাফনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন কবরের ভেতরে থাকা কঙ্কালসদৃশ বস্তুটি শামীমের মরদেহের অংশ কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

মরদেহ কবরস্থান থেকে সরিয়ে দরবার প্রাঙ্গণে দাফনের অভিযোগে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর